সিলেটে গৃহশিক্ষক থেকে মা-মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং ভয়াবহ পরিণতি
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
সিলেটে গৃহশিক্ষক থেকে মা-মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, অতঃপর ভয়াবহ পরিণতির শিকার হলেন গৃহশিক্ষক। কুড়াইল হাওড়ে মিলল তার বিবস্ত্র মরদেহ। এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে এক নারী-পুরুষ ও এক তরুণসহ তিন জনকে।
অবশেষে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে ক্লুলেস থাকা এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক সম্পর্ক, বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন এবং প্রায় ৬০ লাখ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
পুলিশ জানায় গত ২৯ জানুয়ারি জালালাবাদ থানাধীন উমাইরগাঁও এলাকায় বাদেশ্বর নদীর উত্তর পাড়ে কুড়াইল হাওড়ের বেতের ঝোপে এক যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। ঘটনার পর মোবাইল নম্বর বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন সোনারপাড়া এলাকা থেকে আব্দুল মতিন (৪৫) ও খালেদা বেগম (৩২)-কে গ্রেফতার করে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ১৬ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করা হয়।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত শোয়েবুর রহমান ওরফে শিহাব (৩০) ২০২৩ সাল থেকে আসামি খালেদা বেগমের বাসায় তার সন্তানদের আরবি গৃহশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। খালেদা বেগমের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় নিহত ব্যক্তি পরিবারটির ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শোয়েবুর রহমান খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন তাকে ভোগ করতে থাকেন। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে, যখন তিনি খালেদা বেগমের যুবতী মেয়ের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিষয়টি খালেদা বেগম কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি।
তদন্তে আরও জানা যায়, নিহত শোয়েবুর রহমান বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে খালেদা বেগমকে নানা স্বপ্ন দেখান। জমি কেনার বায়নার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির অর্থসহ বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিদেশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া এবং মেয়ের সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি নিয়ে খালেদা ও শোয়েবুর রহমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে সম্পর্কের টানাপড়েন ও প্রতারণার অভিযোগ ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শোয়েবুর রহমানের (৩০) বাড়ি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন বড়শালা এলাকার মংলিপাড়ায়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান (৩৬) বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজু হয়—মামলা নং: ১২/১২ তারিখ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ,ধারা: ৩০২/২০১/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।
নিহতের মোবাইল নম্বর, কললিস্ট বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহপরাণ (রহঃ) থানাধীন সোনারপাড়া এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে।




