জৈন্তাপুর সারী নদীর চোরাবালিতে প্রাণ গেলো শাবি শিক্ষার্থীর
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নীলনদ খ্যাত সারী নদী পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হলেও, অপরিকল্পিত ভ্রমণ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে প্রতিনিয়ত ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নদীর চোরাবালি ও গভীর পানির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এবার প্রাণ হারালেন শাবির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার সাহেবমারা ড্রয়ার এলাকায় সারী নদীর চোরাবালিতে তলিয়ে যান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২০২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মুসআব আমীন।
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এবং জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশের দুটি টিম উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ তল্লাশির পর বিকাল ৪টার দিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. মুসআব আমীন (২৮) গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সকিপুর গ্রামের মো. শহিদুর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাহেবমারা ড্রয়ার এলাকায় নদীর চোরাবালি অত্যন্ত বিপজ্জনক হলেও সেখানে পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য কোনো স্থায়ী সাইনবোর্ড, নিরাপত্তাকর্মী বা উদ্ধার ব্যবস্থা নেই।
একজন স্থানীয় বলেন, “প্রতিবছরই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পর্যটকদের সচেতন করা জরুরি।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সারী নদীর মতো পর্যটন স্পটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। নদীতে নামার আগে সতর্কতা, পর্যাপ্ত গাইড ব্যবস্থা, চোরাবালি চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।
এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিশ্চিত করাই সর্বাগ্রে প্রয়োজন।



