কেন কার নির্দেশে মুসাব্বির হত্যাকাণ্ড, জানাল ডিবি
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের জেরে ঢাকা মহানগর উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। আর দীলিপ ওরফে বিনাশ নামের এক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ দেশের বাইরে থেকে তাকে হত্যার এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
এর আগে মুসাব্বির হত্যায় গতকাল শুক্রবার ভোরে নরসিংদী থেকে আবদুর রহিম নামের এক শুটারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিষয়ে তথ্য জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি জিন্নাত (২৪), আবদুল কাদের (২৮), মো. রিয়াজ (৩১) ও মো. বিলাল নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, মুসাব্বিরকে গুলি করেন দুজন। এর মধ্যে একজন জিন্নাত, আরেকজন রহিম। জিন্নাতকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুজন টাকার বিনিময়ে গুলি করেছেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের দেখা গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন ও ১২টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তারা নিজেদের প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যেতে রাজি থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন চাঁদাবাজ গ্রুপের নাম বলেছে, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের কথা বলেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেখান দ্বন্দ্ব থেকেই বিনাশের নির্দেশে শুটার রহিম এবং জিন্নাত কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নেয়।’
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘বিদেশে অবস্থানরত দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। দিলিপ আন্ডারওয়ার্ল্ডের একজন সন্ত্রাসী। কারওয়ান বাজারকেন্দ্রীক ৮-৯টি চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্টার হোটেলের পেছনে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহত মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।




