নাসাল স্প্রে অতিরিক্ত ব্যবহারে ঝুঁকি, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডিকনজেস্ট্যান্ট নাসাল স্প্রে অতিরিক্ত ব্যবহারের বিরুদ্ধে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, এসব স্প্রে ভুলভাবে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে নাকের ভেতরের অংশে স্থায়ী ও অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্যতা ও তাৎক্ষণিক আরামের কারণে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই নির্ধারিত সময়সীমা উপেক্ষা করেন। ফলে নাসাল স্প্রের প্রতি নির্ভরশীলতা এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিচ্ছে।
সচেতনতার ঘাটতি উদ্বেগজনক
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানেনই না যে নাসাল স্প্রে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা উচিত নয়। এই অজ্ঞতার কারণে বহু মানুষ অজান্তেই দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘদিন নাসাল স্প্রে ব্যবহার করলে ‘রিবাউন্ড কনজেশন’ নামের একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে স্প্রের প্রভাব শেষ হলে নাক বন্ধের সমস্যা আরও তীব্র আকারে ফিরে আসে।
দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি
রয়্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির মতে, ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে নাকের ভেতরের সংবেদনশীল রক্তনালিগুলোতে প্রদাহ ও ফোলাভাব তৈরি হয়। এতে উপকারের বদলে নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক রোগী স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারার জন্যও স্প্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘রাইনাইটিস মেডিকামেন্টোসা’।
এই সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী নাক বন্ধ, জ্বালা, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং ঘন ঘন হাঁচির মতো উপসর্গ দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে নাকের ভেতরে এমন ফোলাভাব তৈরি হয়, যা ওষুধে আর সারে না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, সাধারণ ওষুধ হিসেবেই পরিচিত নাসাল স্প্রে ভুলভাবে ব্যবহার করলে কতটা স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।




