নির্বাচনের আগেই উত্তেজনা, সু চির বেঁচে থাকার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:০৮ অপরাহ্ণ
মিয়ানমারের বন্দী সাবেক নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চি জীবিত ও সুস্থ আছেন—এমন দাবির প্রমাণ দিতে দেশটির সামরিক সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস। দুই বছরের বেশি সময় ধরে মায়ের কোনো ছবি, কণ্ঠ, সরাসরি খবর বা ন্যূনতম যোগাযোগ না পাওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানায়, কিম অ্যারিসের সাম্প্রতিক উদ্বেগের পর মিয়ানমারের সামরিক সরকার একটি বিরল বিবৃতিতে দাবি করে সু চি সুস্থ আছেন। কিন্তু দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মিয়ানমার ডিজিটাল নিউজে প্রকাশিত সেই বিবৃতিতে সু চির স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো ছবি, চিকিৎসা প্রতিবেদন বা প্রমাণ যুক্ত করা হয়নি। এতে তাঁর সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে অ্যারিস জানান।
রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী সু চির সুস্থতার দাবি করলেও কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না। তাঁর ভাষায়, পরিবার, চিকিৎসক, আইনজীবী বা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নেই। তিনি প্রশ্ন করেন, যদি সু চি সত্যিই সুস্থ থাকেন, তাহলে সেটা দেখাতে সমস্যা কোথায়।
জাপানে অবস্থান করে কিম অ্যারিস তাঁর মায়ের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সামরিক সরকারের পরিকল্পিত নির্বাচনের বিরুদ্ধেও কড়া সমালোচনা করে আসছেন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই নির্বাচন জান্তার ক্ষমতা বৈধ করার কৌশল।
কিম অ্যারিস জানান, দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাঁর আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, তাঁর জানা মতে সু চি হয়তো আর জীবিত নাও থাকতে পারেন। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে কেউ দেখেনি। এমনকি আইনজীবীরা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।
২০২০ সালের নির্বাচনের পর সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সু চি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। দুর্নীতি, নির্বাচন জালিয়াতি, রাষ্ট্রদ্রোহ, করোনা বিধি ভঙ্গ, অবৈধ যোগাযোগ সরঞ্জাম রাখা এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। আন্তর্জাতিক মহলে এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত।
মিয়ানমার সামরিক সরকার দাবি করেছে, ছেলের বক্তব্য মনগড়া এবং আসন্ন নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর উদ্দেশ্যে ছড়ানো। তবে কিম অ্যারিস জানান, মিয়ানমারের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বছরের পর বছর গোপনীয়তা, নীরবতা ও বিচ্ছিন্নতার কারণে যে কোনো সন্তানেরই ভয় বাড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট, রয়টার্স





