২২ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি শিশু স্বাধীন
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে নলকূপের জন্য খনন করা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু স্বাধীনকে উদ্ধারে রাতভর চেষ্টা চালিয়েও তার অবস্থান চিহ্নিত করতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় ২২ ঘণ্টা পার হলেও তার নড়াচড়ার কোনো আলামত পায়নি ফায়ার সার্ভিস। স্থানীয়রাও কাটিয়েছেন নির্ঘুম রাত।
সর্বশেষ উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থান শনাক্তে সেই গর্তে ফায়ার সার্ভিস ফেলেছিল বিশেষ ক্যামেরা। কিন্তু ৩৫ ফুট যাওয়ার পর আটকে যায় ক্যামেরা। তবে দেখা মেলেনি স্বাধীনের। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা, হয়তো ৪০ ফুট নিচেই রয়েছে স্বাধীন।
এদিকে গর্তে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় ফায়ার সার্ভিস।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রথমে ক্যামেরা ব্যবহার করে শিশুটির অবস্থান দেখতে ব্যর্থ হন। এরপর বিকেল থেকে গর্তের পাশ দিয়ে স্কেভেটর দিয়ে খনন শুরু করা হয়। রাত ১টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ ফুট পর্যন্ত মাটি খনন করা হয়েছে বলে জানা যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকিতে নিয়োজিত থাকা তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা আশা করি, আল্লাহ শিশুটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।’
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম জানান, ৩৫ ফুট গভীরেও ক্যামেরায় কিছু দেখা যায়নি। শিশুটি বেঁচে আছে কি না তা নিশ্চিত নই। তবে আমরা অক্ষতভাবে তাকে উদ্ধার করতে পাশের মাটি খনন করছি।
শিশুটির মা রুনা খাতুন বলেন, ‘আমি সামনে হাঁটছিলাম, স্বাধীন পেছনে। একটু পর দেখি ও নেই। এরপর গর্ত থেকে মা-মা ডাক শুনি।’
প্রসঙ্গত, স্থানীয় কৃষক কছির উদ্দিন প্রায় এক বছর আগে ৮ ফুট ব্যাসার্ধে গভীর নলকূপ বসাতে গর্ত খনন করেন। এলাকায় পানির স্তর ১২০–১৩০ ফুট নিচে হওয়ায় কাজ অসম্পূর্ণ রেখে গর্তটি খোলা থাকে। গর্তের মুখে খড় থাকায় তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোরিং মালিক তাহের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত এই ডিপের পাইপটি মুখ খোলা অবস্থায় ফেলে রেখেছিলেন। কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী রাতভর উদ্বেগ নিয়ে উদ্ধার অভিযান দেখছেন। এদিকে উৎসুক জনতার ভিড় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।





