দেড় বছরেও উদ্ধার হয়নি থানার লুট হওয়া ৪০ অস্ত্র
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পরও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় হামলা ও লুট হওয়া ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৭ হাজারের বেশি গুলি উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলেছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ লাইনস, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, আড়াইহাজার থানা এবং গোপালদী ও কালাপাহাড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় মোট ১৫১টি অস্ত্র ও ৯ হাজার ২৫ রাউন্ড গুলি লুট হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ১১০টি অস্ত্র এবং ১ হাজার ৫০৭ রাউন্ড গুলি। এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৪০টি অস্ত্র ও ৭ হাজার ৩৯৫ রাউন্ড গুলি।
সবচেয়ে বেশি অস্ত্র লুট হয় আড়াইহাজারের দুটি তদন্ত কেন্দ্র থেকেÑ ১৩৭টি অস্ত্র ও ৬ হাজার ১১৯ রাউন্ড গুলি। এখনও নিখোঁজ আছে ২৯টি অস্ত্র ও ৪ হাজার ৮০০ রাউন্ড গুলি। এর মধ্যে রয়েছে চায়নায় নির্মিত রাইফেল, এসএমজি, পিস্তল, শর্টগান এবং গ্যাসগান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার লুট হওয়া পাঁচটি অস্ত্রের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে দুটি। জেলা পুলিশ লাইনস থেকে লুট হওয়া ৯টি অস্ত্রের একটিও উদ্ধার হয়নি। কর্তৃপক্ষের কাছে এ মুহূর্তে এসব অস্ত্র কারা ব্যবহার করছে, তাও অজানা।
অভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের একের পর এক ঘটনা জনমনে আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গত সেপ্টেম্বর ও মার্চে সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করা, নভেম্বরজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় পরপর গুলি ছোড়া এবং এক গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবুও এসব ঘটনায় অস্ত্র উদ্ধার বা অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকি মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘এতগুলো অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনে যাওয়া বড় ঝুঁকি। প্রশাসনের বড় ব্যর্থতা হলো- দেড় বছরেও অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারা। নির্বাচনের আগে যেভাবেই হোক সব অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে, নইলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে।’
তবে পুলিশ দাবি করছে, অস্ত্র উদ্ধারে শিথিলতা নেই। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চলছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছি। অস্ত্র প্রদর্শনের পূর্বের ঘটনাগুলোও আমরা খতিয়ে দেখছি।’





