ট্রাক্টর উল্টে নদীতে পড়ে একই পরিবারের তিন নারী নিহত
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:১২ অপরাহ্ণ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মোটর চালিত ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে নদীতে পড়ে একই পরিবারের তিন নারী নিহতেরঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর বারোটায় তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি-রাজাপুর সড়কের পাশে ইমন মিয়ার বাড়ির সামনে তিতাস নদীতে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহতরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা শুক্কুর আলীর স্ত্রী রিনা আক্তার (৩৫), ইমন মিয়ার স্ত্রী রুজিনা আক্তার (৩০) ও ফারুক মিয়ার স্ত্রী সামছুন নাহার (৪০)। নিহতদের মধ্যে রুজিনা ও সামছুন নাহার আপন জা ও রিনা আক্তার তাদের ভাগিনার স্ত্রী।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নিহত তিন নারী তিতাস নদীতে গোসল করার সময় রাজাপুর থেকে কড়িকান্দি বাজারগামী একটি খালি ট্রাক্টর ইমন মিয়ার বাড়ির সামনে এসে উল্টে তিতাস নদীতে নারীদের উপর পড়ে যায়। এই সময় ঘটনাস্থলেই রিনা ও রুজিনা মারা যায় এবং সামছুন নাহারকে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে একই পরিবারের তিন নারীর মৃত্যুর খবর শুনে আশপাশের কয়েক গ্রামের শত-শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে এসে নারীদের মৃত দেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এই সময় স্থানীয়রা কৃষি কাজে ব্যবহারের ট্রাক্টরে ট্রাকের মতো বডি লাগিয়ে সড়কে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চলাচলের কাজে ব্যবহারের বিষয়টিকে বেআইনি উল্লেখ করে প্রশাসনের কাছে এর প্রতিকারের দাবি জানান।
এই বিষয়ে তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া মমিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, আইনানুসারে ট্রাক্টর কৃষি ও বনায়নের কাজে সড়কে যাতায়াত করবে। এই ক্ষেত্রে তা মানা হয়েছে কি না এবং ট্রাক্টরে যে বডি সংযোজন হয়েছে তা আইনসিদ্ধ কি না ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে কি না তা যাচাই করে উপজেলা প্রশাসন তিতাস থানার সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার কাজ চালিয়ে ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে, ট্রাক্টরে বডি লাগানো থাকলেও ট্রাক্টরটি খালি ছিল এবং চালক পলাতক রয়েছে। তবে তাকে আটক করার জন্য অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।





