দলে ফিরেই সিলেটের নেতাদের ‘পেরেশানি’
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে তাদের শাস্তিমূলক বহিস্কার করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং দলের প্রতি তাদের অতীতের অবদান বিবেচনা করে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো হয়েছে।
কিন্তু তবু তাদের পেরেশানি আর কমছেনা। বরং বেড়েছে আগের চেয়ে। তবে এই পেরেশানি মোটেও হতাশার নয়, আনন্দের।
সিলেট বিএনপির বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা নেতারা এখন সানন্দে সেই পেরেশানিটা মেনেও নিয়েছেন। ঝাঁপিয়ে পড়েছেন দলের জন্য সাংগঠনিক তৎপরতায়। আর সেই তৎপরতা আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে। প্রতিদিন চলছে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় বা গণসংযোগ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের ৪ বারের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নির্বাচনেও তিনি জয় পেয়েছিলেন। তবে সেই নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। কিন্তু নেতাকর্মীদের চাপে নির্বাচন করেন উজ্জ্বল। ফলাফল দলীয় শাস্তির খড়গ। বহিস্কার করা হয় সিলেট মহানগর বিএনপির এই নেতাকে।
তবে সম্প্রতি তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই পেরেশানিতে আছেন উজ্জ্বল। তবে তার এই পেরেশানি আনন্দের। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরে দলের জন্য কাজ করতে পারাটাই একজন রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীর পরম আরাধ্য। উজ্জ্বলও তাই করছেন।
সিলেট-১ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে বিশাল নারী সমাবেশ করেছেন ১৮নং ওয়ার্ডের আগপাড়া এলাকায়। সমাবেশে সহস্রাধিক নারী অংশগ্রহণ করেন। দলে ফিরেই তার এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নকে প্রশংসার চোখে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। অনেকে বলছেন চমক। এর বাইরে অন্যান্যভাবেও তিনি দলের জন্য বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রায় একই ধরনের পেরাশানিতে আছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও দলে সদ্যপ্রত্যাবর্তন করা নেতা আলতাফ হোসেন। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই চমক দেখান তিনি, নির্বাচিত হয়েছিলেন ৩৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। শাস্তি হিসাবে দল থেকে বহিস্কার এবং সম্প্রতি প্রত্যাবর্তন।
তবে দলে ফিরেই সুমন অসম্ভব পেরেশানিতে আছেন। দিনরাত কাজ করছেন দলের জন্য। প্রতিদিনই কোনোনা কোনো সভা সমাবেশ বা মতবিনিময় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিতে তার এই পেরেশানিতে উৎফুল্ল নিজের অনুরাগী কর্মী ও সমর্থকরা।
এছাড়াও দলে ফিরেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ প্রচার সম্পাদক আব্দুর রকিব তুহিন এবং ১৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মুনিম।
জানা গেছে, প্রতিদিন তারাও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ শুরু করেছেন। প্রার্থীর সাথে যেমন সভা- সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, তেমনি নিজেরাই নিয়মিত উঠান বৈঠক গণসংযোগ মতবিনিময় ইত্যাদি চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বহিস্কার হয়েছিলেন বিএনপির যে ৪০ জন নেতা, তাদের সবার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন প্রত্যেকেই দলের প্রতি নিজেদের দায়-দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।



