পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ নির্মিত হলো শহীদ মিনার
সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
ভাষা আন্দোলনের ৭১ বছরেও দোয়ারাবাজারের প্রাথমিক,মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা,স্কুল এন্ড কলেজ ও উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজসহ৩৬ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেমিনার নেই, শ্রদ্ধা আছে কলাগাছ, বাঁশের কঞ্চিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শিরোনামে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি,দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক সিলেট বানী ও দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক পত্রিকাসহ জাতীয়, স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদের একটি অংশে কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক বক্তব্যদেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন কলেজে শহীদ মিনার নির্মানে শুধই আশ্বাসদেয়, দুয়ারে দুয়ারে হেটেও কলেজে একটি শহীদ মিনার নির্মানে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তিনি সংবাদে আস্বস্ত করেন কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তলন করে হলেও কলেজে শহীদ মিনার নির্মান করা হবে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়।
অধ্যক্ষের বক্তব্যসহ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি কলেজের অধ্যক্ষের দৃষ্টিগোচরে এলে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। সরকারী বরাদ্দ না থাকায় কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতায় কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ৪ ডিসেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করতে দ্রুততার সহিত শহীদ মিনার ব্যবহারে ব্যবস্থা করা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ।
উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একমাত্র কলেজটি প্রতিষ্ঠার ৩১ বছরেও শহীদ মিনার নির্মানে কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ ৩১ বছরে শতাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে শহীদ মিনার নির্মানে দাবী জানান। শহীদ মিনার নির্মানে জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধুই আস্বস্ত আর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৩১ বছরও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এতে জাতীয় দিবসগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছিলো কলেজের শিক্ষককদের। দিবস পালনে শহীদ মিনার নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখ থেকে বাঁচতে কলেজের অর্থায়নে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মান করা হতো। এছাড়াও দিবস পালনে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মানে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে। দিবস আসলে কলেজে শহীদ মিনারের শূন্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠে।
স্থানীয়দের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় কলেজ শিক্ষকদের ল।
দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল হক জানান, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ৪ ডিসেম্বর শহীদ মিনার নির্মানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহীদ মিনারটি ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসকে সামনে রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়। শতভাগ কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়নি তবুও সুসজ্জিত ভাবে সাজিয়ে বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কলেজে শহীদ মিনার নির্মান হওয়ায় শিক্ষার্থী,শিক্ষকসহ স্থানীয়দের মাঝে এক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
সারাদেশসংবাদ/হান্নান





