এমসি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায়ের ম্যুরাল উদ্বোধন
মইনুল হাসান আবির:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ১৩২ বছরের পুরনো তথা আসামের প্রথম এবং বাংলাদেশের ৭ম ঐতিহ্যবাহী কলেজ মুরারিচাঁদ সরকারি কলেজ ১৮৯২ সালে প্রখ্যাত শিক্ষানুরাগী রাজা গিরিশচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠা করেন যা এমসি কলেজ নামে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
১৮ নভেম্বর, শনিবার। সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায়ের ম্যুরাল উদ্বোধন করা হয়েছে। কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এমসি এইচএসসি’ ৯১ ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দের অর্থায়নে রাজা গিরিশ চন্দ্র রায়ের ম্যুরাল নির্মাণ করা হয়। বিকাল সোয়া চারটায় ক্যাম্পাসে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়, ধারাবাহিকভাবে থিম সং গেয়ে এমসি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশচন্দ্র রায়ের ম্যুরাল উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মো. রিয়াজ। উদ্বোধনের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এমসি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষগন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ। পরে প্রাক্তন শিক্ষার্থী সবাই মিলে নব-নির্মিত ম্যুরালে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার ১৩১ বছর পর প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতি রক্ষায় এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগ। অনুষ্টানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাজমা পারভীন।
সিলেটে শিক্ষা বিস্তারে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন রাজা গিরিশচন্দ্র সেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮৯২ সালে এমসি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন সিলেট রায়নগরের রাজা গিরিশ চন্দ্র রায় (১৮৪৫-১৯০৮)। তিনি সিলেটের প্রথম রায়বাহাদুর ও একমাত্র রাজা খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তি। শিক্ষাবিস্তারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৫ সালে তাঁকে রায়বাহাদুর এবং ১৮৯৯ সালে রাজা উপাধিতে ভূষিত করেন। রাজা গিরিশ চন্দ্র রায়ের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ স্থাপনা কাজের অনুমতি দেন। এই ম্যুরাল স্থাপনার কাজটি সম্পূর্ণভাবে কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কলেজের যৌথ তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল আনাম মোঃ রিয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, এমসি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা গিরিশ চন্দ্র রায়ের অসাধারণ কর্মযজ্ঞের জন্য শ্রদ্ধাবনত চিত্তে কৃতজ্ঞতা জানাই মহান আত্মার প্রতি। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয়েছে শুধুমাত্র এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে। আর মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠাতার ম্যুরাল নির্মাণ নিঃসন্দেহে আনন্দের বার্তা বহন করে এবং স্থাপনা বর্তমান ও ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিক ইতিহাস চর্চার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং ম্যুরাল নির্মাণে যারা অতুলনীয় পরিশ্রম ও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন সবার প্রতি ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই ম্যুরালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকাজের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল আনাম মো. রিয়াজ। প্রায় চার মাস পর নির্মাণকাজ শেষে শনিবার ম্যুরালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ম্যুরালটি নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক খাতে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ২১২ টাকা। এটা নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতার অবদান ও নাম শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রয়াত গুণী খান বাহাদুর সৈয়দ আবদুল মজিদ কাপ্তান মিয়ার ম্যুরাল স্থাপন করা হয়। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ম্যুরাল উদ্বোধনে শুভেচ্ছাকথন, সবুজ পরান স্মরণিকার মোরক উন্মোচন শেষে ম্যুরাল নির্মান কমিটির সদস্য প্রবীর চৌধুরীর শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, এমসি কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি, রাজনৈতিক-সাহিত্য-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট/আবির





