দোয়ারাবাজারে টানা বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণসুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফসলী জমিতে পানি জমে গেছে। এতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। বুধবার রাত থেকে বিরতিহীন বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়। বৃষ্টি হওয়ার আগে বেশ কিছুদিন যাবত ভ্যাপসা গরম ছিল। বুধবার থেকে অনবরত বৃষ্টি হওয়ার কারণে রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস।
শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ভওয়ালি পাড়া,উরুরগাঁও,জাহাঙ্গীরগাঁও,পাইকপাড়া,কলাউড়া,বোগলাবাজার ইউনিয়নের বাঘমারা,কাঠালবাড়িসহ ৯ ইউনিয়নে তিন দিনের অনবরত বৃষ্টির কারণে রবি ফসলের খেতে প্রচুর পানি জমে গেছে। ফসলের মাঠগুলোতে গম, সরিষা, বোরো ধানের বীজতলা, মরিচ, শাক, বেগুন, মুলা,করলা,শষা, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও ওলকপিসহ শীতকালীন তরকারি রয়েছে।
বোগলাবাজার ইউনিয়নের কৃষক আবু বক্কর জানান, ১ একর জমিতে তিনি শষা ও করলা আবাদ করেছেন। বুধবার থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সব শেষ হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। তবে বৃষ্টি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে।
বাংলাবাজার ইউনিয়নের কৃষক শাহিদ মিয়া জানান, এ বছরে ১ একর ৬০ শতক জমিতে কাঁচামরিচ,লাল শাক চাষাবাদ করেছি। আরো ১ একর জমিতে শষা ও কড়লা আবাদ করেছি । সার-ঔষধের দাম হওয়ায় খরচ হয়েছে ব্যাপক। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে গেছে। এতে করে করলার গাছ জ্বলে গেছে। লালশাক ও কাঁচা মরিচ পচে যাচ্ছে। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি।
তিনি আরও জানান, করলা চাষে তার খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৪’হাজার টাকা। টার্গেট ছিলো ১লক্ষ টাকার করলা বিক্রি করা। শষা চাষে খরচ হয়েছে ১৩ হাজার টাকা, এপর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার টাকা। টার্গেট ছিলো ৬০ হাজার টাকার শষা বিক্রি করা। লাল শাঁক বাজারজাত হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতে পচে গেছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন জানান, টানা তিনদিন বৃষ্টি হচ্ছে। দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন এলাকায় খেতে পানি জমে গেছে। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি এবং কৃষকদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। বিশেষ করে লালশাঁক,করলা ও মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আরো কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বেশি লোকসানে পড়তে হবে কৃষকদের।
সারাদেশসংবাদ/হান্নান






