দোয়ারাবাজারে মানবিক এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদ’র বদলি
সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ৭:২১ অপরাহ্ণসুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সদ্য বিদায়ী এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদ যোগদান করেই অবৈধ জমিদখলদার,চোরাচালান,অবৈধ বালু পাথর উত্তোলন,বাল্য বিবাহ,ইভটিজিং, জুয়া ও মাদক দমনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন।
তিনি যোগদানের পর প্রথমেই ভূমি অফিসকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা। ভূমি অফিসে বঙ্গবন্ধু ও মুজিব কর্নার স্থাপন।
জনগনের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা পৌছানেোর জন্য মোবাইল ভূমি সেবা স্কুল সেবা কার্যক্রম।
রাতে সুরমা ও খাশিয়ামা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজিং পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনকারী ৩৫ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আটক ও ৪ টি স্টিল বডি আটক।
(ভিপি,লীজ,মানি) জেলাতে সর্বোচ্চ আদায় ।
জনগনের সার্বিক ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় শিশু দের মানসিক বিকাশের জন্য নান্দনিক শিশু পার্ক গড়ে তুলা। বর্তমান জরিপে অনেকেই নিজেদের নামে খাস জমি রেকর্ড করিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।সেটেলমেন্ট এ বিষয়ে আপত্তি দাখিল করাসহ তার শুরু থেকে এ পর্যন্ত সেটেলমেন্ট অফিসে ৪০ টি মামলা করা । কাচারি ভূমি অফিসের জায়গা ব্যক্তির নামে রেকর্ড করানোর পায়তারা কারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ তা রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের আওয়তায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুর্নবাসন এর জন্য কাজ ।
সরকারি খাস জমি উদ্ধার করতে গিয়ে ভূমি দস্যুদের রোষানলের পরতে হয়েছে অনেকবার।
চোরাচালন রোধে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা। এসব কর্মকান্ডে যেমন উপজেলার নিরিহ ও অসহায় মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছিলেন,তেমনি অপরাধীদের জন্য হয়ে উঠেছিলেন আতষ্ক। তার বিদায়ে যেমন করে নিরিহ ও অসহায় ব্যক্তিরা হারিয়েছে নির্ভরযোগ্য ভরসার জায়গা। তেমনি স্বস্তি পেয়েছে উপজেলার বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত অপরাধীরা।
এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদ আসার পর দেয়ারাবাজারে কমেছে অবৈধভাবে জমি দখল,অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু পাথর উত্তোলন,জুয়া,চুরাচালান,মাদক, বাল্যবিবাহসহ কমেছে অপরাধ মুলক কর্মকান্ড। যেখানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে জলমাহাল ২.৫ লক্ষ টাকা বিক্রি করা হতো সেই জলমহাল সিন্ডিকেট ভেঙে ৬.২৫ লক্ষ টাকা খাস আদায় করা। যেখানে প্রতিবছর ১৯ লক্ষ টাকায় জলমাহাল ইজারা প্রদান করা হতো সেটা ২৭ লক্ষ টাকা খাস আদায় করা। এছাড়াও গত অর্থবছরে মোবাইল কোর্টে ৩৬ লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগার জমা প্রদান করেন তিনি।
সেই সাথে দেয়ারাবাজার উপজেলায় বেড়েছে সর্বস্থরের মানুষের সেবার মান ও প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা। কমেছে জমি জমা বিষয়ে দেয়ারাবাজার উপজেলাবাসীর হয়রানি । এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদ এর যেই ঘোষণা সেই কাজে উপজেলাবাসীর নজির গড়েন তিনি। ভূমি সেবায় দোয়ারাবাজার উপজেলায় পরিবর্তনের সাফল্য আসে তার সময়েই। অপশক্তি দিয়ে জুরপূর্বক জমি দখল হতে মানবিক এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদের নির্দেশনায় সাধারণ মানুষ হাফ ছেড়ে বাঁচে। বৃত্তের বাইরে গিয়ে তার এই মানবসেবা মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি হয়েছিল।
২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত দোয়ারাবাজারে, নিজ ক্ষমতায় অবৈধভাবে জমি দখল,সরকারি রাজস্ব ফাকি দিয়ে অবৈধ চোরাচালানের ব্যবসা,সরকারি জমি আত্মসাৎ’র চেষ্টা,জুয়া,মাদক সেবন,সামাজিক সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের লড়ায়ের খবর মানুষের কাছে ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
পান থেকে চুন খসলেই শক্তি দিয়ে অন্যের জমি দখল ও বাড়িঘর ভেঙ্গে দেওয়া যেন একটি ট্রেন্ড তৈরি হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি সমাবেশ করেও প্রতিকার হচ্ছিল না।
আগে ভূমি সেবা নিতে দিনের পর দিন মানুষ যে কষ্ট পোহাতো তা এখন আর নেই। ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র অনলাইনে আপডেট, সপ্তাহে ৩-৫ দিন গণশুনানি সহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমির নামজারি ও খারিজসহ নানামুখী সেবায় যেমন করে পাল্টে গেছে দোয়ারাবাজার উপজেলা ভূমি অফিস। তেমনি ভাবে এসিল্যান্ডের সততা ও সৃজনশৃলতায় প্রত্যন্ত এই উপজেলার মানুষদের জন্য নির্মান করেছেন দৃষ্টিনন্দন শিশু পার্ক,সাহসীকতায় দমন করেছেন, সরকারি জমি উদ্ধার,জুয়া,মাদক,ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ। ভূমি অফিসের আঙ্গিনায় সাজিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধা কর্নার। উপজেলা ভূমি অফিসে আগের মতো এখন সেবা নিতে নেই তৃতীয় পক্ষের দৌরাত্ম। কোনো হয়রানি ছাড়াই মিলছে জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ভূমি অফিসের নানামুখী সেবা পেয়ে খুশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। যেসকল ক্রেতা-বিক্রেতারা এক সময় তৃতীয়পক্ষের সহায়তা ছাড়া জমির কোনো কাজই করতে পারতেন না, তারাই এখন নিজের সমস্যার কথা নিজেরাই ভূমি অফিসে এসে বলতে পারছেন। সেবাগত এই পরিবর্তনের সাথে একটি চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে ভূমি অফিসের পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজও এগিয়ে নিয়েছেন তিনি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
মানবিক এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদ’র জন্যই এ উপজেলার মানুষের কাছে আরেক দফায় প্রশাসনের প্রতি নাগরিক সেবা পেতে আস্থা সৃষ্টি হয়েছিলো । তিনি বারবার প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন অন্যায়কারী সে যেই হউক ছাড় দেওয়া হবে না। এই এসিল্যান্ড উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন, গ্রামের মানুষের কাছেও তিনি সমান প্রিয় ব্যক্তিত্ব।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখার সভাপতি বশির আহমদ বলেন, ‘এখন উপজেলা ভূমি অফিসের ওপর মানুষের একটা আস্থা বিশ্বাসও ফিরে এসেছে, যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি অপ্রত্যাশিত দেয়ারাবাজারবাসীর জন্য নির্মান করেছেন শিশু পার্ক যেখানে প্রতিদিন শতশত মানুষ অবসর সময় কাটানোর মধ্যমে বিনোদন উপভোগ করছেন। এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদের ভূমিকা দোয়ারাবাসী সারাজীবন মনে রাখবে।
এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমদ ২০২১ সালের ২৭ জুলাই দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড হিসাবে যোগদান করে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্বগ্রহন করেছেন।
সারাদেশসংবাদ/হান্নান






