দোয়ারাবাজারে জমে উঠেছে কুরবানির গরুর বাজার,পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিন্ন সুর
সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুন ২০২৩, ৭:২৮ অপরাহ্ণকোরবানির ঈদ উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় জমে উঠেছে পশুর হাট। সীমান্তবর্তী এ উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে ভারতীয় গরু বেশি না আসায় চাহিদা বেড়েছে দেশীয় প্রজাতীর গরুর। তবে, পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে দেখা দিয়েছে ভিন্ন সুর।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহত্ত স্থায়ী পশুর হাট বালিউড়া বাজার গিয়ে দেখাযায়,কোরবানির গরু ক্রয় করতে আসা কেউ বলছেন গরুর বাজার এখন মধ্যম পর্যায় চলছে। বিক্রেতারা বেশি দাম না চাওয়ায় ক্রেতারা ও সহজে গরু কিনতে পারছেন। আবার, কোন কোন ক্রেতাদের মতে বাজার এখন চড়া,তাদের মতে বাজার চড়া হওয়ায় অনেকে বাজারে না এসে বাড়ি খামারে গিয়ে গরু কিনছেন। তবে,বাজারে আসা পশু বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। শুক্রবার (২৩ জুন),মহব্বতপুর,নরসিংপুর, বাংলাবাজার,বগুলাবাজার,নাছিমপুর পশুর হাট সহ উপজেলার ৮টি স্থায়ী গরুর বাজার ঘুরে বিক্রেতা, ক্রেতা ও ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র পাওয়া গেছে।
পশু বিক্রেতাদের মতে,বাজারে তুলনামূলকভাবে গরুর দাম বর্তমানে মন্দায় রয়েছে। যেখানে গরু পালনে যাবতীয় পণ্যের যে দাম বৃদ্ধি হয়েছে,সে অনুযায়ী গরুর দাম এখনও চড়া হয়নি। তবে পশু বিক্রি করে বেশির তুলনায় কম লাভ হলেও লস হবেনা বলে জানান বিক্রেতাগন।
স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে,গত বছরের প্রলয়নকারীর বন্যার রেশ কাটিয়ে এখনও উঠতে পারেনি সীমান্তবর্তী এই উপজেলার মানুষজন। এতে,অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এবার অধিকাংশ ক্রেতাই খুঁজছেন মাঝারি আকারের ছোট গরু। তাদের মতে, অনেক পরিবার ও ব্যক্তি বিগত বছরে একাধিক পশু কুরবানী দিলেও এবছর অধিকাংশই প্রতিবেশিদের সাথে ভাগাভাগি করে কুরবানির দিচ্ছেন।
তাছাড়াও,হাটে আসা অধিকাংশ গরু ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় গরুর বেচাকেনা তুলনা মূলক কম হচ্ছে বলে জানান হাট ইজারাদাররা।
কারো কারো মতে, যেহেতু বর্তমানে দেশব্যাপি গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে সে অনুযায়ী গরুর বাজার মধ্যম গতিতে চলছে। তাদের মতে এভাবে চলতে থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই সুবিধা হবে।
তবে,কোন কোন ক্রেতা বলছেন,এবছর গরুর বাজার চড়া। বাজারে গরুর দাম অতিরিক্ত থাকার কারনে বিভিন্ন পয়েন্ট ও বাড়ি গিয়ে ক্রেতারা গরু কিনছেন বলে জানান তারা।
উপজেলার বালিউড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ,৪৫ হাজার টাকায় একটি বখনা গরু বিক্রি করেন তিনি। তার মতে গরু বাজারে ভালোই চলছে। বর্তমান বাজার দামে খুশি তিনি।
বাংলাবাজারে তিনটি ষাঁড় গরু বিক্রি করতে আসেন বিট্রিশ এলাকার বাসিন্দা জমির আলী। তার একটি ষাঁড় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও বাকি দুটি ষাঁড় রয়েছে। দাম ও ভালোই হচ্ছে তবে আরও একটু বেশি দামের আশায় বাকি দুটি ষাঁড় বিক্রি করেনি। ১লক্ষ ২০ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় গরু কিনে বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন, তিনি বলেন,বাজারে গরু কিনতে এসে ভালোই লেগেছে। তার ক্রয় করা গরুটি প্রথম দেখা ও অল্প দাম কষাকষিতেই ক্রয় করতে পেরেছেন।
তবে,আব্দুর রউফ ও ফখর উদ্দিন নামে দু’জন ক্রেতার মতে, এবার গরুর দাম চড়া। তাদের মতে গরুর বাজার চড়া থাকায় অধিকাংশ ক্রেতাগণ সরাসরি বাড়িতে ও খামারীতে গিয়ে গরু ক্রয় করছেন। এতে, এবছর কুরবানী ও কম হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
ছাতকের মৌলা থেকে বালিউড়া বাজারে গরু কিনতে আসেন আবুল হোসেন নামে এক ক্রেতা, তিনি ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় একটি, ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় কিনেন।
তিনি বলেন, গরুর দাম এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যার ফলে গরু কিনায় ভুগান্তিতে পরতে হয়নি।
দাম বেশি ও নেই আবার কম ও নেই। ক্রেতা -বিক্রেতার মাঝে মিলের মধ্যদিয়েই বেচাকেনা হচ্ছে। তার মতে বাজার এরকম থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই ভালো হবে।
শুক্রবার গরুর হাট পর্যবেক্ষন করতে আসেন দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তিনি বলেন,বর্তমানে ৭০০-৮০০ টাকা দরে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। সে অনুযায়ী গরুর বাজার এখনো ভালো আছে। ক্রেতাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছেনা,বিক্রেতাদের ও লাভ হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৫ দিন আগে ৭৫ হাজার টাকায় একটি ও ৮০ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় গরু কিনেছিলেন তিন। ১৫ দিন পরে সেই গরুর একটি ৯৫ হাজার টাকায় ও আরেকটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান,বাজারের যে চিত্র দেখা গেছে তাতে কোন ধরনের সংকট কিংবা পশুর দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ঈদকালীন অন্যবছরের মতে হঠাৎ পশুর দামে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে,উপজেলার এসব পশুর হাটে ও স্থায়ী গরুর বাজারে গিয়ে দেখাগেছে, উপজেলার খামারি ও কৃষকদের দেশীয় প্রযুক্তিতে মোটাতাজাকরণ করা উন্নতমানের দেশি গরু কিনতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন গরু ব্যবসায়ীরা। গরুর হাট বালিউড়া বাজার এলাকায় ব্যাংক বা টাকা লেনদেন করার ভালো কোনো মাধ্যম না থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ক্রেতারা।
উপজেলার বালিউড়া পশুর হাট ইজারাদার ফজলুর রহমান ভূইয়া জানান,উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু আসা শুরু করেছে। পশুর হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য নিজস্ব ভলান্টিয়ার কাজ করছেন বলে জানালেন উপজেলার সবচেয়ে বড় এই গরুর হাট ইজারাদার।
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে কোরবানির পশু রয়েছে।কোরবানি ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দেওয়া হয়েছে।সুতরাং আমাদের এখানে ভারতীয় গরুর কোন প্রয়োজন নেই।
উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ৮ টি পশুর হাটে সপ্তাহে দুই দিন করে গরু, ছাগল ও মহিষ বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলায় কোরবানি উপলক্ষে পশুর চাহিদা রয়েছে ২’ হাজার ৮’শত ৭১ টি।প্রস্তুত রয়েছে ৭’হাজার ৪’শত পশু। এর মধ্যে গরু প্রায় ২’হাজার,মহিষ,ছাগল ভেড়া সব মিলিয়ে ৫’হাজার ৪’শতটি।
সারাদেশসংবাদ/হান্নান






