১৪৫ টাকার মুরগি বাজারে ২২০ টাকা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছেন প্রান্তিক খামারিরা। তাদের সেই মুরগি বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। মাঝখানে ভোক্তার পকেট থেকে যাচ্ছে বাড়তি অর্থ। খামারির ১৪৫ টাকা কেজির ব্রয়লার মুরগি বাজারে ক্রেতারা ২২০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে, কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০ টাকা দরে। দেশি মুরগির দাম ঠেকেছে ৮০০ টাকায়। যা দুই সপ্তাহ আগেও ৬৫০ টাকা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে কারা দামের আগুন ছড়াচ্ছে, কোথায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে-তার কোনো জবাবদিহি নেই। ফলে একদিকে খামারিরা পথে বসার উপক্রম হচ্ছেন, অন্যদিকে ঠকছেন ক্রেতা। মাঝখানে লাভবান হচ্ছে অসাধু চক্র।
দুই যুগের বেশি সময় ধরে খামার পরিচালনা করে আসা টাঙ্গাইল জেলার ভূঁঞাপুর উপজেলার খামারি আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হয় সাড়ে ১০ থেকে ১১ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে অনেক সময় সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ টাকায় বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ১৪৫ টাকা। যেখানে পাইকারি দাম থাকে ১৪০ থেকে ১৪৮ টাকা। তিনি জানান, গত এক বছরে যেভাবে মুরগির খাদ্যের দাম বেড়েছে, অতীতে এমন হতে দেখিনি। প্রতিদিন হাজার হাজার খামারিকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে ডিম, মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে সেই মুরগি ২০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। তাতে আমাদের তো কোনো লাভ হচ্ছে না।
রাজধানীর নয়াবাজারে সাঈদ আল মামুন বলেন, পণ্যের বাজারে অস্থিরতা চলছে। রোজায়ও পণ্যের দাম এত ছিল না। ঈদের পর সব কিছুর দাম হু-হু করে বাড়ানো হচ্ছে। পরিবারের জন্য একটু মাছ-মাংস জোগাড় করতাম। কিন্তু বাজারে যে দাম কেনা সম্ভব নয়। ব্রয়লার মুরগিও ২০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা যে যার মতো বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন।
একই বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুল বলেন, পাইকারি বাজারে সব ধরনের মুরগির দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজি ২০-৩০ টাকা বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে। যে কারণে আমাদের খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৭০-৯০ টাকা বাড়িয়েছে। তাই পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া কোনো গতি নেই।
কথা হয় কাপ্তান বাজারের পাইকারি মুরগি বিক্রেতা সোহেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। ট্রাকগুলো পর্যাপ্ত তেল নিতে পারছে না। যে কারণে পরিবহণে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে। সঙ্গে সরবরাহ কম হচ্ছে। এতে বাড়তি দামে মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, পণ্যের বেসামাল দামে অসহায় মধ্য ও নিম্নবিত্তরা। অসহায় হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। গরিবের আমিষের চাহিদা পূরণ হয় ব্রয়লার মুরগি দিয়ে। সেখানেও অসাধু থাবা। হু হু করে বাড়াচ্ছে দাম। কেন এই দাম বাড়ল সেই চিত্র বের করতেও তদারকি সংস্থার কোনো চেষ্টা দেখছি না। তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের অজুহাতে যাতে অবৈধভাবে কেউ বাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে সেজন্য বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর অভিযান জোরদার করতে হবে।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যাতে অবৈধভাবে মুনাফা করতে না পারে সেজন্য আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হচ্ছে। খামার পর্যায়ে কি দামে বিক্রি হয়েছে, পাইকারিতে কত টাকায় বিক্রি হয়েছে আর খুচরায় বিক্রেতারা কি দামে বিক্রি করছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





