দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে শিক্ষকের শূন্যপদ ৬০ হাজার ২৯৫টি
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
দেশের শিক্ষা খাতের জনবল সংকট নিরসনে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে বর্তমানে মোট ৬০ হাজার ২৯৫টি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বহুমুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী সংসদে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করেন যে, সরকারি কলেজগুলোতে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত প্রভাষক পদের ৬৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর পাশাপাশি সদ্য সরকারিকৃত কলেজগুলোতে নন-ক্যাডার প্রভাষক পদে ২ হাজার ৪১০টি শূন্য পদ রয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ বর্তমানে খালি পড়ে আছে। মন্ত্রী আরও জানান, এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দ্রুতই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শূন্য পদগুলো পূরণের সময়সীমা ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী জানান যে, সরকারি কলেজের প্রভাষক নিয়োগের জন্য ৪৫তম থেকে ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বড় ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই লক্ষ্যে গত ২৯ মার্চ ই-রিকুইজিশন বা শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মেধাতালিকা অনুযায়ী শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১১ হাজার ১৫১টি শূন্য পদ পূরণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এই লক্ষে অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত) আয়োজন করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এই দীর্ঘমেয়াদী এবং সমন্বিত নিয়োগ কার্যক্রমগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান শিক্ষক সংকট অনেকাংশেই দূর হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এম এইচ আ




