স্থল হামলা মোকাবিলায় ইরানের ৮ স্তরের ‘দুর্ভেদ্য’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টারবাহী অভিযান ও স্থল সেনা মোতায়েনের হুমকির মুখে ইরান তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করেছে।
দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি ৮টি ভিন্ন ভিন্ন স্তরে সাজানো একটি ‘দুর্ভেদ্য ঢাল’। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো শত্রুকে কেবল প্রতিহত করা নয়, বরং তাদের ঘিরে ফেলে বন্দী করা। এই ৮টি স্তর কীভাবে সাজানো হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত চিত্র সামনে এনেছে ইরান।
শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যম ওয়ানা নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটির একজন উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ইরানের স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি এই কৌশলকে আটটি স্বতন্ত্র স্তরের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যার প্রতিটি স্তরের লক্ষ্য আক্রমণকারীদের মোকাবিলা করা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “শত্রুরা যদি মনে করে তারা কেবল একটি ফ্রন্টের মুখোমুখি হবে, তাহলে সেটি হবে তাদের অগভীর চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।” তার তথ্যানুযায়ী, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮টি স্তর এখানে তুলে ধরা হলো।
১. বিশেষ ও অনন্য বাহিনী: এটি উন্নত হুমকির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ স্তর। এর মধ্যে রয়েছে আইআরজিসি নেভাল স্পেশাল ফোর্স (এসএনএসএফ), আর্মি নেভি রেঞ্জার্স (এসবিএস) এবং ৬৫তম নোহেদ ব্রিগেড (এয়ারবোর্ন স্পেশাল ফোর্স)। এছাড়া আইআরজিসি স্পেশাল ফোর্সেস ব্রিগেড এবং আরও চারটি পূর্ণাঙ্গ গ্রাউন্ড ফোর্স ব্রিগেড এতে অন্তর্ভুক্ত। এই ‘অ্যান্টি-হেলিবর্ন’ (হেলিকপ্টার বিধ্বংসী) ইউনিটগুলো পারস্য উপসাগরের দ্বীপপুঞ্জ ও উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে যাতে আকাশপথে কোনো অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়।
২. ফাতেহীন স্পেশাল ফোর্স: ফাতেহীন স্পেশাল ফোর্স, এয়ারবর্ন ডিভিশন, সেনাবাহিনীর ২৫, ৩৫, ৪৫ ও ৫৫তম এয়ারবর্ন ব্রিগেড, ২৩তম এয়ারবর্ন ও ৫৮তম তাকাভার (রেঞ্জার) ডিভিশন এবং আর্মি মাউন্টেন ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন- এই ইউনিটগুলো যুদ্ধের গভীর এলাকায় আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
৩. পদাতিক-যান্ত্রিক ব্রিগেড: এই ব্রিগেডগুলো সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির প্রশিক্ষিত ইউনিট নিয়ে গঠিত, যারা সাঁজোয়া যানে সজ্জিত। তারা সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি এভিয়েশন থেকে বিমান সহায়তা ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণের সাহায্য পায়।
৪. প্রাদেশিক কোর ও পুলিশ স্পেশাল ইউনিট: শহরের উপকণ্ঠে এবং শহুরে এলাকায় শত্রু বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলা করার দায়িত্ব এদের। এর মধ্যে রয়েছে নোপো, যারা শহুরে পরিবেশে সম্মুখ যুদ্ধে সহায়তা প্রদান করে।
৫. ইমাম হোসেন ব্যাটালিয়ন: ভারী ও আধা-ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এই স্ট্রাইক ইউনিটগুলো প্রতিরক্ষা লাইন স্থিতিশীল রাখা ও ফায়ার সাপোর্ট প্রদানের জন্য নিয়োজিত।
৬. ইমাম আলী ব্যাটালিয়ন (স্পেশাল অপারেশনস): সামরিক কর্মকর্তার মতে, এগুলো হলো অভিজাত ইউনিট যা জটিল সংকটের সময়ে কঠিন মাঠ পর্যায়ের অপারেশন পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
৭. প্রবীণ বাসিজ: প্রতিরক্ষা (ইরান-ইরাক যুদ্ধ) যুদ্ধের অভিজ্ঞ প্রবীণ সৈনিক ও অবসরপ্রাপ্ত আইআরজিসি ও বাসিজ কর্মীদের নিয়ে এই স্তর গঠিত। এই বাহিনী তাদের আট বছরের অসম যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রণক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে।
৮. গণ-বাসিজ: প্রতিরক্ষার সর্বশেষ স্তর হলো সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক নাগরিকদের বড় আকারে সশস্ত্র করা, বিশেষ করে হুমকির মুখে থাকা পশ্চিম ও দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চলে। বর্তমানে এই স্তরে ১০ লাখেরও বেশি কর্মী রয়েছে, যা সাধারণ আহ্বানে ১ কোটিতে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই সামরিক কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, এই কাঠামোটি কেবল একটি সাধারণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়; বরং এটি একটি স্বাধীন আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা যা শত্রুকে ধ্বংস করতে ও আক্রমণকারীদের বন্দী করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
তার দাবি, “শত্রুর যেতোনো ভুল গণনার ফলে তারা এমন প্রতিরক্ষা স্তরে প্রবেশ করবে, যেখান থেকে বের হওয়া আমরা অসম্ভব করে তুলবো।”
এম এইচ আ




