সুনামগঞ্জে ব্রিজ ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও ব্রিজ ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর—এই তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে বৃহত্তর রঙ্গারচর ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৭০ বছর পুরোনো এই ব্রিজটি চলতি রমজান মাসে ভেঙে পড়ে। এর ফলে এলাকাটিতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সাময়িক সংস্কার করা হয়। তবে সেই সংস্কার স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় বিকল্প হিসেবে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজার দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত প্রায় ৩০ বছর ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী-পুরুষ ও রোগীদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
পথচারী শাহরুখ মিয়া বলেন, “দুই কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভাড়াও বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি। দ্রুত নতুন ব্রিজ দরকার।”
আরেক বাসিন্দা সুহেল আহমদ জানান, “সুরমার উত্তরপাড় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমাদের সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।”
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ বলেন, ব্রিজটি ছিল এলাকার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। এটি ভেঙে পড়ায় জনভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ জরুরি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভেঙে যাওয়া ব্রিজের পাশে অস্থায়ীভাবে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেইলি ব্রিজের আদলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রক্রিয়াও চলছে।
এম এইচ আ





