মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি: সনদ যাচাই‑বাছাইয়ে বেরিয়ে এলো বিস্ফোরক তথ্য
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ হওয়া অন্তত আট হাজার জন্মদাতা মুক্তিযোদ্ধার সনদ বা তথ্য সন্দেহজনক বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।অনলাইন সংবাদপত্র
বিষয়টি নিয়ে সরকারি তথ্য যাচাই‑বাছাই করা হচ্ছে এবং এতে সন্দেহজনক তথ্যই বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত মোট আট হাজারজনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তথ্য সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ হওয়া প্রতি ১০০ জনের তথ্য পরীক্ষায় প্রায় ৭ থেকে আটজনের তথ্যেই গরমিল পাওয়া যায়। এর ফলে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ বৈধ কি না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।জাতীয় খবর
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি ১০০ জনের নাম যাচাই করতে গিয়ে ৭ থেকে ৮ জনের দেওয়া তথ্য সঠিক নয় বা তথ্যে গরমিল রয়েছে বলে উঠে আসছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী বলছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে তথ্য পুনরায় চাইতে হয়েছে, ফলে যাচাইতে সময় লাগছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ে জনবল কম থাকায় তালিকা ভক্তান্ত হতে বিলম্ব ঘটছে।
প্রাথমিক যাচাই অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ৯০ হাজার ৫২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত, যার মধ্যে অনেকের তথ্য যাচাই‑বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭ হাজার জনের তথ্য পর্যালোচনা শেষে পরিবীক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, বাকিদের কাজ চলমান রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদে যারা চাকরি নিয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এদের চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেই। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ জমা দিয়ে সরকারি চাকরি করার খবর বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে চাওর হয়েছে। কামাল হোসেন নামে এমন একজন ভুয়া সনদ ব্যবহার করে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জালিয়াতি ধরা পড়ার পর তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কামাল হোসেন এখন কারাগারে।
উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়ে যারা সরকারি চাকরি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১৪ আগস্ট সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ফারুক-ই-আজম। পরদিনই তিনি মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও যাচাই-বাছাই শেষ করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।
এম এইচ আ




