সুনামগঞ্জের ১০ জনের ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন সাগরে বিলীন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভাসতে থাকায় চরম দুর্ভোগে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার আমিনুর রহমান, শায়ক মিয়া, মো. আলী, সোহানুর রহমান ও নাঈম; দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সর্দার ময়না, সাহান এহিয়া, সাজিদুর রহমান ও মুজিবুর রহমান এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার অভ্র ফাহিম রয়েছেন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ইউরোপে যাওয়ার আশায় প্রত্যেকে দালালদের ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ঋণ নিয়ে এই অর্থ জোগাড় করেন। প্রথমে ঢাকা থেকে সৌদি আরব, পরে মিশর হয়ে তাঁদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক মাস ‘গেমঘর’ নামে পরিচিত স্থানে আটকে রেখে পরে নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।
দিরাই উপজেলার নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া বলেন, “আমার ভাইসহ সবাই ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে যায়। লিবিয়ায় নেওয়ার পর অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়। কয়েকদিন যোগাযোগ ছিল না। পরে জানতে পারি, সে আর বেঁচে নেই।”
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের ঝিনুক মিয়া বলেন, “আমার ভাই নাঈমকে দালালরা সাগরে পাঠায়। কয়েকদিন যোগাযোগ ছিল না। পরে জানতে পারি সে মারা গেছে। আমরা দালালের বিচার চাই।”
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, তাঁর ইউনিয়নের দুই যুবক মারা গেছেন। তাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখন তাঁদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. আজিজুর রহমান বলেন, দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আরও দুজনের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে তাঁরা বৈধ পথে কোনো সংস্থার মাধ্যমে যাননি, তাই সরকারি নথিতে তাদের তথ্য নেই।” তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্যমতে, জীবিতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, যাত্রাপথে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। টানা ছয় দিন খাবার ও পানীয় ছাড়া সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ সুদানের দুই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
এম এইচ আ




