বলিভিয়ায় টাকা ভর্তি বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৫
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের রাষ্ট্র বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের কাছে দেশটির জাতীয় মুদ্রা বলিভিয়ান বলিভিয়ানোতে পরিপূর্ণ একটি সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এএফপি, লস এঞ্জেলস টাইমস, সিবিসি নিউজ, আরটি নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সান্তা ক্রুজ থেকে ছেড়ে আসা উড়োজাহাজটি রাজধানী লা পাজের নিকটবর্তী এল আলতো শহরের বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর পরই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারানোর একপর্যায়ে বিমানটি রানওয়ে থেকে পিছলে লাগোয়া একটি ব্যস্ত মহাসড়কে ঢুকে যায়। সেখানে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়িকে এটি সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই ওই বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বলিভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্সেলো স্যালিনাস এক বিবৃতিতে জানান, নতুন ছাপানো নোট নিয়ে বলিভীয় সেনাবাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ কার্গো বিমান রাজধানী লা পাজের সংলগ্ন এল আলতো শহরের বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরের প্রবেশের অবতরণের সময় এটি রানওয়ে থেকে সরে যায় এবং কাছাকাছি মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়।
তিনি আরও জানান, বিমানটি ভূমিতে আছড়ে পড়ার পর সেটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে পৌঁছে তাদের কাজ শুরু করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর প্রধান পাভেল তোভার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তবে এই নিহতদের মধ্যে কতজন বিমানযাত্রী ছিলেন এবং কতজন ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোতে ছিলেন-তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল সার্জিও লোরা এক বিবৃতিতে জানান, কার্গো বিমানটিতে মোট ছয়জন ক্রু ছিল। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ মিললেও দুজনের খোঁজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।কার্গো বিমানটি পূর্বাঞ্চলীয় শহর সন্তাক্রুজ থেকে এল আলতো শহরের দিকে যাচ্ছিল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিমানটি মহাসড়কে আছড়ে পড়ায় কমপক্ষে ১৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ছড়িয়ে পড়া নোট হাতিয়ে নিতে ভিড় করেছেন উৎসুক জনতা।
তবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড এপিনোজা জানিয়েছেন, এই নোটগুলো আপাতত কোনো কাজে আসবে না। কারণ নোটগুলোতে এখনো সিরিয়াল নম্বর বসানো হয়নি।
এক বিবৃতিতে এপিনোজা বলেন, ‘বিমানটিতে থাকা নোটগুলো এখনো পরিপূর্ণ মুদ্রা হয়ে ওঠেনি। সিরিয়াল নম্বর নেই নোটগুলোতে। এই সিরিয়াল নম্বর বসানোর জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নোটগুলো নিয়ে আসা হচ্ছিল।
ঠিক কী কারণে সামরিক কার্গো বিমানটি বিধ্বস্ত হলো, তা উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।




