‘একটা লোকও ভোট দিল না’
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শরীয়তপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। কিন্তু ভোটের ফলাফলে নিজের এলাকার ১৩টি গ্রামের মধ্যে বাড়ির ভোট ছাড়া আর কোনো ভোটই পাননি তিনি।
এই আসনের অন্তর্ভুক্ত শরীয়তপুর সদর এবং জাজিরা উপজেলা। মোট ভোটার ৩৯৫৪৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০৭৭৩০ জন, নারী ভোটার ১৮৭৭৩৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন।
পরাজয়ের পর দুঃখ প্রকাশ করে গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৩টা গ্রামের মধ্যে একটা ভোটও পাই নাই আমার বাড়ির ভোট ছাড়া। একটা লোকও ভোট দিল না, ভুলেও ভোট দিল না। সবাই আমাকে মুখ লুকায়ে চলে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই নাওডুবার সন্তান। আমার বেড়ে ওঠা এই নাওডুবা। নাওডুবা প্রাইমারি স্কুল, নাওডুবা হাইস্কুল যেটা আমজাদ সওদাগরের স্কুল, আমজাদিয়া একাডেমি। সেই আমজাদিয়া একাডেমি সেন্টারে সাড়ে চার হাজারের মতো ভোটার ছিল, অথচ একটা ভোটও পেলাম না।
মানুষের পাশে থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গ্রাম জনপদের মানুষের সুবিধা অসুবিধায় সবসময় ছুটে চলেছি। মানুষের জন্য কী না করেছি। কেউ কি বলতে পারবে আমার কাছে এসে কোনো উপকার পায় নাই, না হইলে অন্তত একটা সৎ পরামর্শ পাইছে। তবুও সবাই হঠাৎ মুখ ফিরায়ে নিল।
ভোটারদের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই বলেছিল আমাকে ভোট দেবে। কিন্তু ভোটের দিন একটা লোকও দিল না। ভাবা যায়।
নিজের শিকড়ের কথা স্মরণ করে গোলাম মোস্তফা বলেন, আমজাদ সওদাগরের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে, সে চলে গেছে। কিন্তু আমি কোথায় যাব বলেন। আমার তো নাওডুবা ছাড়া আর কোনো জায়গা নাই।
তিনি আরও বলেন, এখন সবাই আমাকে মুখ লুকিয়ে চলে। কারণ মুখ দেখানোর মতো অবস্থা তাদের নাই, সেটাও বুঝি। তবে যারা এই নীল নকশার সঙ্গে জড়িত, যারা নাওডুবাকে এত বড় অসম্মানের মধ্যে ফেলেছে, তারা কখনো এই নাওডুবায় সম্মানিত হতে পারবে না। এটা অভিশাপ না, এটা নাওডুবার জন্য বিশেষ বার্তা।
শরীয়তপুর-১ পালং জাজিরা আসনের ১৩৯টি কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৯৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের জালালুদ্দীন আহমদ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৭১৭ ভোট।




