নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৩২
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মোটরসাইকেলে এসে তিনটি গ্রামে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অন্তত ৩২ জনকে হত্যা করেছে বন্দুকধারীরা। এই হামলায় বেশ কিছু মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে এবং পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আজ রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকার তিনটি গ্রামে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে নাইজার অঙ্গরাজ্যের পুলিশ মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, হামলাকারীরা গ্রামগুলোতে ঢুকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে এবং বেশ কিছু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে সেখানে ছয়জন নিহত হন এবং বেশ কিছু মানুষকে অপহরণ করা হয়। এরপর বন্দুকধারীরা কোনকোসো গ্রামে ঢুকে পড়ে, যেখানে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে মানবিক সহায়তা প্রদানকারী কিছু সূত্রের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৩৮ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
কোনকোসো গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে হামলাকারীরা গ্রামে ঢুকে পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় অনেককে গুলি করে এবং কয়েকজনের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পিটসা নামক আরেকটি গ্রামেও হামলা চালিয়ে একটি পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে পার্শ্ববর্তী কওয়ারা এবং কাতসিনা রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলায় প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছিলেন। নাইজার ও কওয়ারা রাজ্যের সীমান্তবর্তী কাইনজি বন এলাকাটি বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে বোরগু এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুকে ওই অঞ্চলে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে গত বছর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সমালোচনা করেছিলেন। এরপর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে নাইজেরিয়া।
তবে নাইজেরিয়া সরকার খ্রিস্টানদের ওপর পরিকল্পিত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাইজেরিয়ার এই নিরাপত্তা সংকটে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই সমানভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন। নিরাপত্তা উন্নয়নে বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে নাইজেরিয়া সরকার। গত ডিসেম্বরেও সোকোতো রাজ্যে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।




