সিলেট বিভাগে ১১২৬ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
উৎসবের ভোট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কড়া নাড়ছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে থাকছে বডি-অর্ন ক্যামেরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধান অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার শেষ হতে হয়। সে অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচার শেষ হলো। একই সাথে ভোট গ্রহণের জন্য চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টীম।
আসন্ন নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে ২ হাজার ৮৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ১২৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশ্য স্থানীয় প্রশাসন বলছে, এসব কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভাগের সব ভোট কেন্দ্রই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জানা গেছে, সিলেট বিভাগের সংসদীয় ১৯টি আসনে ২ হাজার ৮৮১টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের ৬টি আসনে ১ হাজার ১৬, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ৬৬৪, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ৬৪৭ ও মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ৫৫৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে সিলেটের ৬টি আসনে ২১৭, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ৪৫১, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ২৩৫ ও মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ২২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য রয়েছে সিলেটের ৬ টি আসনে এক হাজার ১৬টি কেন্দ্র। এরমধ্যে ২১৭টি কেন্দ্রে কোনো সংস্কার করানো হয়নি।
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বিয়ানীবাজারে দুটি, দক্ষিণ সুরমায় ৪টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১২টি, গোয়াইনঘাটে ৪৬টি, কানাইঘাটে ৫০টি, কোম্পানীগঞ্জে ১টি, সদরে ৪৫টি, জকিগঞ্জে ৯টি, জৈন্তাপুরে ২৪টি এবং বালাগঞ্জ উপজেলায় ২৪টি।
এদিকে সিলেট নগরীতে ২৯৪টি কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ৯৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নগর পুলিশের আওয়ায় মোট ২৯৪টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ৬৬৪টির মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৬৬৪টি। আসনটিতে অর্ধেকের বেশি ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ১২ উপজেলার মধ্যে ৯ উপজেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮৯টি। এছাড়াও দুর্গম কেন্দ্র ১৫৭টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২৪২টি। সুনামগঞ্জ-১ আসনের জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিশ্বম্ভরপুর এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি মনিটরিং থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের উপজেলাওয়ারী ভোটকেন্দ্রের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের চার উপজেলার মধ্যে তিনটি উপজেলার ৩৮ কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ।জামালগঞ্জে কোন অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। দুর্গম কেন্দ্র রয়েছে ৮৩টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৭৭টি। সুনামগঞ্জ-২ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১২টি, দুর্গম কেন্দ্র ৩০টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭ টি।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২০টি, দুর্গম কেন্দ্র ১৪টি এবং ৫৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১০টি, দুর্গম কেন্দ্র ১২টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের দুই উপজেলায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৯টি, দুর্গম ১৮টি ও ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সবধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার ১২টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর দুটি বীর ব্যাটালিয়ন এবং একটি ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের প্রায় ১ হাজার ১০০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তারা মূলত ভোট কেন্দ্রের বাইরে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন। জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিজিবির দুটি করে প্লাটুন দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি প্লাটুনে সাধারণত ২০-৩০ জন সদস্য থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এ সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
এছাড়া নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ কাজ করবে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য ৩ হাজার ৫০০ জন, আনসার ও ভিডিপি ১২ হাজার, গ্রাম পুলিশ ১ হাজার ২০০ জন কাজ করবেন। পাশাপাশি র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিকভাবে ভোট কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় টহলে নিয়োজিত থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও মোবাইল টিমের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
হবিগঞ্জের ৬৪৭টির মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৩৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে নির্বাচনের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খা বাহিনীর সদস্যরা। এরই মধ্যে হবিগঞ্জের ৪টি আসনে মোট ২৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বলয় তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরমধ্যে অনেক বাহিনী তাদের মহড়াও সম্পন্ন করছে।
জানা গেছে, জেলার ৪টি আসনে মোট ৬৪৭টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও আলাদাভাবে থাকবে আরও ৪টি পোস্টাল ভোট কেন্দ্র। আর এসব কেন্দ্রে ২০৬৭ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ৫৫টি মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯টি, ২টি কুইক রেসপন্স টিম ও প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে, জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। নির্বাচনে জেলায় দায়িত্ব পালন করবে ১৭ প্লাটুন বিজিবি। এছাড়াও সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
মৌলভীবাজারে ৫৫৪টির মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২২৩
মৌলভীবাজারের চারটি আসনে ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৮০টি ও ঝুঁকিপূর্ণ ১৪৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া বাড়তি নজরদারিতে রাখা হবে। মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক ৩৩১টি কেন্দ্র রয়েছে। যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, এসব কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এ ছাড়া দুজন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অতিরিক্ত থাকবেন।
সিলেট সংবাদ/আবির




