থামছে না অস্ত্র বিস্ফোরকের চালান, বাড়ছে সহিংসতার ঝুঁকি
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সিলেট বিভাগে অস্ত্র ও বিস্ফোরক চালানের প্রবেশ থামছে না। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি উদ্বেগের। সতর্ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দফায় দফায় হচ্ছে বৈঠক। বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধানের উপস্থিতিতে, বিজিবি সেক্টর কমান্ডারের উপস্থিতিতে এবং জেলা প্রশাসনে পৃথক পৃথক বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে নির্বাচনি সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। বুধবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সিলেট সফর করেন। তিনিও সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে যান। পরিস্থিতি বিচেনায় বাড়ানো হয়েছে বিজিবির সীমান্ত চৌকি, বাড়ানো হয়েছে সোর্স। পুলিশ ও র্যাব একযোগে অভিযান অব্যাহত রেখেছে নগর ও গ্রামাঞ্চলে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেটে গত এক বছরে উদ্ধার হয়েছে ৩৮টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেল। জব্দ হয়েছে ৭৫টি এয়ারগান। লাইভ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে ১০৪ রাউন্ড। কার্তুজ ও প্যালেট মিলিয়ে ২১৫০ পিসেরও বেশি। ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে ৫টি। উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক পাউডার ও জেল উদ্ধার হয়েছে ৯ হাজার ৬২৫ গ্রাম ও ৯ দশমিক ৬ কেজি। ডেটোনেটর উদ্ধার হয়েছে ৫৪টি, ইলেকট্রিক ও নন-ইলেকট্রিক দুই ধরনেরই। সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে ১টি। পেট্রোলবোমা উদ্ধার হয়েছে ৫টি। দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ।
এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক কোথা থেকে আসছে, কারা আনছে, কোথায় মজুত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। বসানো হয়েছে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট। নদীপথেও রাখা হচ্ছে নজর। আন্তঃজেলা রুটে তল্লাশি এবং শহরের প্রবেশপথে ব্যারিকেড। বৃহস্পতিবার ডগ স্কোয়াড ও সাঁজোয়া যান নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দিয়েছে বিজিবি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা সামনে রেখে জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি।
সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৪১ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬২টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। চলছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের সমন্বয়। প্রস্তুত মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট। দৃশ্যমান টহল বাড়ানো হয়েছে। রাতে বিশেষ অভিযান, দিনে নজরদারি চলছে। দফায় দফায় বৈঠক করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সমন্বয় সভা, ঝুঁকি মানচিত্র হালনাগাদ, গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার, রাজনৈতিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ, মিছিল ও সমাবেশে শর্ত আরোপসহ নেওয়া হয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি।
সিলেটে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এই নির্বাচন প্রায় দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের প্রতীক্ষার। আর এই নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটবে বলে মানুষ অধীর অপেক্ষায়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন আইনশৃঙ্খলার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। গত ফ্যাসিস্ট আমলে প্রকাশ্যে রাজপথে অজস্র ভারী ভারী অস্ত্র প্রদর্শিত হয়েছে। সেসব এখনো উদ্ধার হয়নি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রার্থীদের প্রচার, ভোটারদের ভোট প্রয়োগের পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার যাবতীয় সব উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় সদস্য মুহম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। দৃশ্যমান কোনো অ্যাকশন নেই। সন্ত্রাসী গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার নেই। তিনি বলেন, গত কদিন আগে দুজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের দুদিন পরই তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।
সিলেটের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনি মাঠ নিরাপদ ও ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচনে বডি ওর্ন ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও জিনিয়া অ্যাপ থাকবে। প্রার্থী, ভোটারসহ সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
র্যাব-৯ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সিলেট রেঞ্জ পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকেবে। বিজিবি বলছে, সীমান্তে চোরাচালান রোধে জোর তৎপরতা চলছে। প্রশাসনের ভাষ্য, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সামষ্টিক হিসাব জনমনে শঙ্কা বাড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশ্বস্ত করছে। তারা বলছে, কঠোর নজরদারি থাকবে। যে কোনো নাশকতা দমনে প্রস্তুত বাহিনী। নির্বাচনের আগের দিনগুলোয় আরও অভিযান হবে। নগরী ও গ্রামাঞ্চল থাকবে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান তাদের।



