অনলাইনে থাকবে পনেরো হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫ হাজার ৫০০ বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরা থাকবে অনলাইনে। ১০ হাজার অফলাইনে। অনলাইনে থাকা বডিওর্ন ক্যামেরা দিয়ে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। এ জন্য একটি স্বতন্ত্র সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে পুলিশ সদর দপ্তর। সাইবার হামলার মাধ্যমে হ্যাকিং করে কোনো হ্যাকার যাতে এই অনলাইন নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, এ জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। সন্দেহজনক কোনো ট্রাফিক এই নেটওয়ার্কে এলে অ্যালার্ট ও অটো ব্লকের ব্যবস্থা থাকবে। কোনো হ্যাকার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করলে তাকে প্রতিরোধের শক্তিশালী ব্যবস্থাও থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনে থাকা বডিওর্ন ক্যামেরার জন্য ডকিং স্টেশন, সার্ভার ও ক্লাউডভিত্তিক ডেটা ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের যে কোনো স্তরে নিরাপত্তা দুর্বল হলে ভোটের সংবেদনশীল ভিডিও ফাঁস, প্রমাণ নষ্ট কিংবা তথ্য বিকৃতির ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বডিওর্ন ক্যামেরার অনলাইন নেটওয়ার্কে শক্তিশালী নিরাপত্তা সলিউশন ব্যবহার করা হবে। যার মাধ্যমে যে কোনো ধরনের সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলা করা হবে। সন্দেহজনক কোনো ডেটা অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
শুধু বাইরের সাইবার হামলায় নয়, ভেতরের অপব্যবহার ঠেকাতে অনুমোদিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের কে কখন কোন ভিডিও দেখবে, কপি করবে বা ব্যবহার করবে এ বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে পুলিশ সদর দপ্তর। এ জন্য ভিডিও ডেটা ব্যবহারে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু এবং প্রতিটি অ্যাক্সেসের অডিট লগ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এসব লগ পরিবর্তন বা মুছে ফেলার সুযোগ থাকবে না।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলেছে, বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য দেশের প্রতিটি থানায় একটি ডকিং বা ডক স্টেশন থাকবে। প্রতিটি ডক স্টেশন একেকটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। থানার নির্ধারিত পুলিশ কর্মকর্তা এই প্ল্যাটফর্মে বসে নজরদারি করবেন ভোটের মাঠে থাকা বডিওর্ন ক্যামেরার। এ ছাড়া সব পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের দপ্তরে পৃথক ডক স্টেশন প্ল্যাটফর্ম থাকবে। এ জন্য সারাদেশে মোট ৭২০টি ইউজার প্ল্যাটফর্ম বসানো হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের কমান্ড সেন্টার থেকে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিমকার্ড সংযুক্ত থাকবে। যাতে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা থাকবে। কোনো ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ হলে এসওএস পাঠানোর মাধ্যমে এসব ক্যামেরা থেকে সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। সার্বক্ষণিক লাইভ ছবি ও ভিডিও দেখার ব্যবস্থা থাকবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রের যে কোনো ঘটনার দৃশ্য এ ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়ে যাবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটগ্রহণকালে পুলিশ সদর দপ্তরের কমান্ড সেন্টার থেকে বডিওর্ন ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ভোটকেন্দ্রের যে কোনো ঘটনার বিতর্ক সমাধানে সহায়ক হতে পারে বডিওর্ন ক্যামেরার ছবি ও ফুটেজ। ভোট কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে যে কোনো ঘটনার ফুটেজ অ্যাভিডেন্স হিসেবে বডিওর্ন ক্যামেরার মেমোরি কার্ডে সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, সেই ফুটেজ কাজে লাগাতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীর ১৩টি সংসদীয় আসনের ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ)। ১৬১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই একজন পুলিশ সদস্য বডিওর্ন ক্যামেরাসহ দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য তারা ডিএমপির প্রতিটি থানায় একটি করে ডক স্টেশন স্থাপন করছেন। এই ডক স্টেশন থেকে সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোয় মোতায়েন বডিওর্ন ক্যামেরাগুলোর ব্যবহার তদারকি ও নজরদারি করবেন থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।




