সিলেট সহ ৮ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন যারা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
কৌশলগত কারণে কয়েকটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। এতে বিভ্রান্তি দেখা দেয় ওই প্রার্থীদের অনুসারী, দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। এরকম আটটি আসনে অবশেষে চড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে দল থেকে চিঠি দেওয়ায় সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসন ও সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির দুই নেতাকে মনোনয়নে বিষয়ে চূড়ান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. নাছির চৌধুরী। কামরুজ্জামান কামরুল ও মো. নাছির চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ১৭ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত চিঠি ১৮ জানুয়ারি ররিবার হাতে পান ওই দুই নেতা। আর আগে প্রথম দফায় বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হককে। সুনামগঞ্জ-২ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন বিএনপির প্রবীণ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মো. নাছির চৌধুরী; কিন্তু মনোনয়ন দাখিলের আগের দিন ২৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলের দ্বিতীয় মনোনয়নের চিঠি পেয়েছিলেন কামরুজ্জামান কামরুল। একইভাবে সুনামগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়নের দ্বিতীয় চিঠি পান জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাড. তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল। তখন দুইটি আসনে চারজনকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে বলা হয়েছিল।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকেই দলের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। গতকাল এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। একই সঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেনও তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। ফলে কুমিল্লা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতা ও আইনি নানান জটিলতার আশঙ্কায় বিএনপি কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে এ আসনটিতে দুজনকে মনোনয়ন দেয়। একজনের মনোনয়ন বাতিল হলে যাতে বিকল্প প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া যায়, কুমিল্লায় বিএনপির নিশ্চিত এ আসনটি হাতছাড়া যাতে না হয় তার কৌশল নেয় দলটি। পরে মোশাররফ হোসেনের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে বিকল্প প্রার্থী তারই ছেলে খন্দকার মারুফ হোসেনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দেয় দলটি। সেই আলোকে মারুফ হোসেন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি দুইজনকে মনোনয়ন দিলেও শেষ পর্যন্ত গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকেই চূড়ান্ত করেছে দলটি। গতকাল সোমবার প্রতীক বরাদ্দের জন্য দলের চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে জমা দেওয়া হয়। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে রাউজান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল হুদা চেয়ারম্যান এ চিঠি জমা দেন।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী খোরশেদ আলম আমাদের সময়কে জানান, গতকাল দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র হাতে পেয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকেও দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। দুজনই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
এদিকে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। এ আসনে প্রথম ধাপে মনোনয়ন পান তিনি। পরে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরীকেও প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও এমরান আহমেদ চৌধুরী দুজনই বিএনপির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ফলে দুই প্রার্থী নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। তবে সময়মতো একজন প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানিয়েছিলেন দলের দায়িত্বশীলরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মুশফিকুর রহমান।
প্রথম দফায় গত ৩ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর একই আসনে জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে ‘সংযুক্তি-২’ লেখা সম্বলিত আরেকটি মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে উভয় প্রার্থীই নিজেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দাবি করে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন। ফলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন এবং এলাকায় এক ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অবশেষে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে মুশফিকুর রহমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই চিঠি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।


