জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা, খুন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব উদ্বিগ্ন, এটা সম্পর্কে আমরা অবগত। আমরা মনে করি এটা সরকারের ব্যর্থতাই যে- তারা এখন পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।’
‘তবে আমি আশাবাদী, আমরা মনে করি যে নির্বাচন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে এবং একটা ভালো অবস্থায় আসবে’, যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
ভারতে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে একমত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িত আছে। নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত এটার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একি সঙ্গে আমরা এটাও মনে করি- ছোটখাটো বিষয়গুলো আলোচনার মধ্যে সমাধান করাই উত্তম।’
বিএনপি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি, বিএনপি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। এদেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই বিএনপির অর্জন। এই যে সংস্কার একদলীয় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আসা, মুক্ত সংবাদপত্রের স্বাধীনতকা নিশ্চিত করা, পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা এসব বিএনপি করেছে। অতীতেও করেছে, এখন বিএনপি ৩১ দফার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন যে সংস্কারগুলো সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তা সব বিএনপির প্রস্তাবে আছে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিএনপি নিঃসন্দেহে অতীকে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সবচেয়ে ভালো কাজগুলো করতে বিএনপি সক্ষম হয়েছে।’
নির্বাচনের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন পরিস্থিতি ভালোই মনে হচ্ছে। নির্বাচনের পরিস্থিতি বোঝা যাবে- যখন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তার আগে কিন্তু বোঝা যাবে না, এখন সবাই যে যার সাংগঠনিক ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে। মনোনয়নের ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে, নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন- যখন প্রচার শুরু হবে।’
এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিটমেন্ট আছে; তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা এবং অভিন্ন নদী যতগুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবন্ধ। ভারতের সঙ্গে আমরা আলোচনা করবো এবং পানির হিস্যা আদায় করবো। একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের সঙ্গে যে মিউচ্যুয়াল রেসপেক্ট, সম্মান সবকিছু মাথায় রেখে আমরা আমার দাবি আদায় করবো।’
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলা, উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




