অবশেষে ‘শান্তি পুরস্কার’ পেলেন ট্রাম্প
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:১৪ অপরাহ্ণ
ফুটবল পরিচালনার আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিফা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রেখে আসছিল। তবে, শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সংস্থাটির প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেছেন। খবর আল জাজিরার।
ট্রাম্পের এ পুরস্কার পাওয়া নিয়ে সমালোচকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় অঞ্চলে আরেকটি মারাত্মক বিমান হামলা চালানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে।’
গাজায় যুদ্ধ ইস্যুতে ইসরায়েলকে বিশ্ব ফুটবল থেকে স্থগিত করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালানো জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ক্রেগ মোখিবার ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়াকে ‘সত্যিই লজ্জাজনক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোখিবার বলেন, ‘’ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিষয়ে ফিফা গত দুই বছর ধরে যা করেছে, তা যথেষ্ট নয়। এখন ইনফান্তিনো ও তার সহযোগীরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি নতুন ‘শান্তি পুরস্কার’ তৈরি করেছেন।’’
মোখিবার মনে করেন, এই পুরস্কারের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের প্রতি ট্রাম্পের ‘লজ্জাজনক রেকর্ড’, ক্যারিবিয়ান সাগরে তার মারাত্মক হামলা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’কে আড়াল করা।
এদিকে পুরস্কার প্রদানের সময় ইনফান্তিনো ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে তথাকথিত ‘আব্রাহাম চুক্তি’, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রশ্ন সমাধান না করেই ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা একজন নেতার কাছ থেকে এটাই চাই, এমন একজন নেতা যিনি জনগণের জন্য চিন্তা করেন। আমরা একটি নিরাপদ বিশ্বে, একটি নিরাপদ পরিবেশে বাস করতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে চাই যে মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনার কর্মকাণ্ডের জন্য। আপনি অবশ্যই প্রথম ফিফা শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।’
ট্রাম্প খোলাখুলিভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রচারণা চালিয়েছিলেন, কিন্তু এই বছরের শুরুতে তিনি সেটি পাননি। তিনি নতুন ফিফা স্বীকৃতিকে তার প্রাপ্ত ‘মহান সম্মান’গুলোর মধ্যে একটি বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, তার কারণে লাখ লাখ জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটিক পূর্বসূরি জো বাইডেনের রেকর্ডের সমালোচনা করে বলেন, ‘এক বছর আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা ভালো করছিল না এবং এখন আমাকে বলতে হচ্ছে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম দেশ।’
তবে, সমালোচকরা আরও বলছেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগে যিনি সোমালিয়ার মানুষকে ‘আবর্জনা’ বলেছেন, তাকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া সেই নীতির বিরোধী।’
ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এর সমালোচনা করে বলেছে, ‘ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে পারেননি। তাই ফিফা তার জন্য একটি পুরস্কার তৈরি করেছে।’





