এক তরুণের স্বপ্নযাত্রা
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
আমি জানি, আমার জীবনের গল্পটা খুব বড় কিছু নয়। আমি কোনো বড়লোকের ছেলে নই, বড় শহরের নামী স্কুলে পড়িনি, কিংবা জন্ম থেকেই সুবিধাবাদী পরিবেশ পাইনি। কিন্তু আমার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় আমাকে শিখিয়েছে—মানুষ বড় হয় টাকা দিয়ে নয়, হয় সংগ্রাম আর স্বপ্ন দিয়ে। আজ আমি যখন আঠারো–উনিশ বছরের এক তরুণ, তখন পেছনে তাকিয়ে দেখি—এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোই আমাকে গড়ে তুলেছে।
আমি খুব সাধারণ পরিবারে জন্মেছি—সেই সাধারণতার মধ্যেই নিজের শক্তি খুঁজে পেয়েছি। ছোটবেলায় বুঝতে পারিনি, কিন্তু বড় হতে হতে উপলব্ধি করলাম—জীবনে আলো খুঁজতে হলে অন্ধকারকেই প্রথমে চিনতে হয়। অনেক সময় ব্যর্থতা আমাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে, অনেক সময় পরিস্থিতি আমাকে দেয়ালে ঠেলে দিয়েছে, কিন্তু আমি একটাই কথা মনে রেখেছি—আমি থামব না।
আমার ভেতরে কখনোই নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় ছিল না। বরং ভয় ছিল—যদি আমি চেষ্টা না করি, যদি আমি নিজের স্বপ্নকে একবারও সুযোগ না দিই। সেই ভয়ই আমাকে প্রতিদিন নতুন করে শুরু করতে শিখিয়েছে।
কৈশোরে একসময় নিজেকে প্রশ্ন করতাম—আমি কে হতে চাই? কেমন মানুষ হতে চাই? তখনই বুঝেছিলাম—নিজের পরিচয় তৈরি করতে হলে আগে নিজের ভিতরটা শক্ত করতে হয়। সবাই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা খুব কঠিন। আমিও সেই কঠিন কাজটাই করি—প্রতিদিন নিজের ইচ্ছাশক্তিকে নতুন করে জ্বালাই।
অনেকেই হয়তো ভাবে, আঠারো–উনিশ বছর বয়স মানে এখনো শিশুসুলভ সময়। কিন্তু আমি জানি, এই বয়সই একজন মানুষের ভবিষ্যতের ভিত্তি। আমি চেষ্টা করি আমার সময়টাকে নষ্ট না করে কাজে লাগাতে। কখনো লেখালেখি করি, কখনো মানুষ দেখি, সমাজকে বুঝি, নিজের ভুলগুলো থেকে শিখি। আমি বিশ্বাস করি—যে মানুষ যত বেশি শেখে, সে তত বেশি বদলায়।
লেখার প্রতি আমার ভালোবাসা তৈরি হয়েছে দিনলিপি লেখার মাধ্যমে। প্রথমে নিজের অনুভূতি লিখতাম, পরে মানুষের গল্প। কখনো একটা ঘটনার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে—“এটা তো বলা দরকার!” সেখান থেকেই আমার লেখার শুরু। আজও কলম ধরলে মনে হয়—আমি শুধু লিখছি না, আমি আমার ভেতরের মানুষটাকে পরিষ্কার করে দেখছি।
আমার জীবনে সংগ্রাম বলতে হয়তো সিনেমার মতো কিছু নেই, কিন্তু ভিতরের যুদ্ধগুলো আমাকে প্রতিদিন নতুন করে বানিয়েছে। অনেক সময় কষ্ট পেয়েছি, হয়তো অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিরবে সহ্য করেছি; আবার অনেক সময় প্রতিরোধের শক্তি জেগে উঠেছে। আমি ধীরে ধীরে বুঝেছি—মানুষ বদলায় না পরিস্থিতি; মানুষ বদলায় তার দৃষ্টিভঙ্গি।
সবচেয়ে বড় শিক্ষা পেয়েছি—দায়িত্ববোধ থেকে। একজন মানুষ যদি নিজের দায়িত্ব না নেয়, তবে অন্যের দায়িত্বও নিতে পারে না। তাই আমি আমার জীবন, পরিবার, স্বপ্ন—সবকিছুকে নিজের দায়িত্ব হিসেবেই দেখি।
অনেকে আমাকে “লড়াই করা মানুষ” বলে। কারণ আমি চেষ্টা করতে ভয় পাই না। ব্যর্থতা আমার কাছে শেষ নয়, বরং শুরু। যখন পড়েছি, তখনই শিখেছি উঠতে হয় কীভাবে। আর এটা আমি জীবনের নিয়ম হিসেবে মানি।
এখন আমার বয়স আঠারো–উনিশ, কিন্তু নিজের ভেতরে আমি অনুভব করি আরও পরিণত এক মানুষকে। আমি জানি, আমার পথ দীর্ঘ, কঠিনও হতে পারে; কিন্তু আমার বিশ্বাস আরও শক্ত। আমি চাই নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে, যেখানে আমার নাম উচ্চারিত হবে আমার কাজের জন্য, আমার সততার জন্য, আমার দায়িত্ববোধের জন্য।
আমার লক্ষ্য শুধু নিজের উন্নতি নয়; আমি চাই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। চাই, মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে—যে কোনো পরিবার থেকে উঠে আসা তরুণও বড় কিছু করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, শক্তি আসে হৃদয় থেকে; আর হৃদয় শক্ত থাকে তখনই, যখন ভিতরে স্বপ্ন থাকে।
আমি কখনোই নিজের অতীতকে ভুলে যেতে চাই না। কারণ আমার অতীতই আমাকে শিখিয়েছে—ধৈর্য কী, সংগ্রাম কী, আর স্বপ্ন কেন এত মূল্যবান। ছোট ছোট সাফল্যগুলো আমাকে প্রতিবার মনে করিয়ে দেয়—আমি পারছি, আমি এগোচ্ছি।
আমার কাছে জীবন মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়—একটা উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচা। আজ আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, তা আমার যাত্রার শুরুই বলা যায়। সামনে যে পথ, তা আরও বড়। আমি চাই, নিজের কাজের মাধ্যমে নিজের নামকে সম্মানিত করতে। চাই, একদিন মানুষ বলবে—“এই ছেলেটা নিজের চেষ্টায় উঠে এসেছে।”
আমি জানি, সামনে আরও সংগ্রাম আছে, কিন্তু ভয়ের কিছু নেই। কারণ আমি জানি, আমি একা নই—আমার স্বপ্ন আমার সাথে আছে। আর স্বপ্ন থাকলে মানুষ কখনো পথ হারায় না।
আজ আমার বয়স আঠারো–উনিশ। ভবিষ্যৎ আমাকে ডাকছে। আর আমি প্রস্তুত—নিজের পথ নিজেই বানাতে, নিজের স্বপ্নকে সত্যি করতে, নিজের জীবনের গল্পকে নতুন অধ্যায়ে নিতে।
এটাই আমার পথচলা।
এটাই আমার পরিচয়।
এটাই আমি—
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
লেখক, শিক্ষার্থী, চকরিয়া, কক্সবাজার




