নতুন সাজে সেজেছে সিলেট: আজ আসছেন প্রধানমন্ত্রী
আব্দুল হান্নান
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ★চাঙ্গা সিলেট আওয়ামীলীগ
★নিরাপত্তার চাদরে পুরো সিলেট
★ জনসমুদ্রে পরিণত করার প্রত্যয় আওয়ামী লীগের
★ প্রধানমন্ত্রীর আগমনে সিলেটে বর্নীল আয়োজন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেট সফর আজ বুধবার (২০ ডিসেম্বর)। এখান থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। বিকেলে নগরের আলীয়া মাদরাসা মাঠে আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এ উপলক্ষে এক নতুন সাজে সেজেছে পূণ্যভূমি সিলেট। আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা। জনসভা সফলে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট আওয়ামীলীগ ।
আওয়ামীলীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পূণ্যভূূমি সিলেট থেকে নির্বানী প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি চুড়ান্ত করা হয়। আজকের সফর সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সিলেট পৌছে হযরত শাজজালাল (র.) হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকেলে আলীয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এখানেই সিলেটের ১৯ আসনে এমপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সিলেট সেজেছে এক নতুন সাজে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট জেলা, উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। কিছু দূর পরপর শোভা পাচ্ছে বাঁশের তৈরি সিলেটের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সুসজ্জিত রঙিন তোরণ। গত কয়েক দিন ধরে সিলেট নগরের ছোট-বড় নির্মাণাধীন প্রকল্প ও রাস্তাঘাট মেরামতের কাজও হচ্ছে জোরশোরে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার প্রস্তুতি। দলটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক ‘নৌকা’র আদলে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চেই আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এ জনসভাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে পুরো সিলেট শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে পুলিশ প্রশাসন। সিলেট মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ সর্তকতা মূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর বন্দরবাজার, সিটি কর্পোরেশন, কোর্ট পয়েন্ট, পুলের মুখসহ বিভিন্ন রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ফুটপাত উচ্ছেদ করছে পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্য ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নগরজুড়ে বাড়তি তৎপরতা চালাচ্ছে। আগে থেকেই থাকা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো নগরীকে কঠোরভাবে নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে। শহরের প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী চেকপোস্ট। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনগুলোতে করা হচ্ছে তল্লাশি।
এদিকে সমাবেশ সফল করতে গত ১৩ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সিলেটের একটি কনভেনশন হলে বিভাগীয় কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিলেট বিভাগের চার জেলার আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ২০ ডিসেম্বর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসমাবেশে স্মরণকালের বৃহৎ করার নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
এছাড়া দলীয় সভানেত্রীর সিলেট আগমনকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিদিনই দলের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দ মিছিল করছেন নেতাকর্মীরা। গতকালও স্বাগত মিছিল হয়েছে সিলেটে। গতকালও সর্বশেষ প্রস্তুতি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভাস্থল পরিদর্শন করেছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সকল প্রস্তুতিতে সন্তুষ প্রকাশ করে বলেন, সিলেট আমাদের পূন্যভূমি, এই পূন্যভূমি থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিবার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট আসছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় সিলেটবাসীর প্রতি আন্তরিক। তাঁর কাছে কিছু চাইতে হয় না, চাওয়ার আগেই তিনি দিয়ে থাকেন। সিলেটবাসীকেও তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। সিলেটসহ পুরো দেশকে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। এইসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিলেটবাসী সাথে থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।
এসময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের সাথে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা মাসুক উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে,প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ ভিভিআইপিদের বরণ করতে অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন। ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা, খাবার ও আবাসন নিয়ে এখন কর্মকর্তারা রয়েছেন মহা ব্যস্ত, করছেন নিরলস পরিশ্রম।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বিমানযোগে সিলেটে আসবেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের ওলিকুল শিরোমনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। এরপর তিনি হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেলে সিলেটের আলীয়া মাদরাসা ময়দানে সিলেট আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে তিনি ভাষণ দেবেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জাকির হোসাইন খান জানান,প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগমন উপলক্ষে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় স্মরণকালে বৃহৎ জনসমাবেশ করার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি জেলা উপজেলা থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা সমাবেশে এসে যোগ দেবেন এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। সিলেট থেকে সারাদেশে নির্বাচনী উৎসবের জোয়ার ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
রাজনীতি/হান্নান





