নির্বাচনে আসুন কার কত দৌঁড়, সেটা দেখতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ১২:১৬ অপরাহ্ণপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বানচালের চেষ্টা করবেন না, ভালো হবে না। যারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন তারা নির্বাচনে আসুন। কার কত দৌঁড়, সেটা আমরা দেখতে চাই। এরইমধ্যে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন তাদেরকে আমি স্বাগত জানাই। ধন্যবাদ জানাই।’ বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নির্বাচনে আসার আহবান জানাচ্ছি। নির্বাচনে বানচালের চেষ্টা করবেন না, ভালো হবে না। যারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন তারা নির্বাচনে আসুন। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমি সবার কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। তারপরেও জনগণ যাকে খুশি ভোট দেবে।বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির মাথা কোথায়? আচ্ছা আমি একটা কথা বুঝি না, বিএনপি কি একটা লোককেও পেল না যে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দলের চেয়ারম্যান করে রেখেছে।’
নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবার কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদেরকে জনগণকে সেবা করার সুযোগ দেবেন। আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপনাদের সোচ্চার হতে হবে। যেখানেই অগ্নিসন্ত্রাস হবে, কেউ এ ধরনের কাজ করতে যাবে, তাদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। আমি বলছি না, আইন হাতে তুলে নেবেন। আপনারা তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন।’
তিনি আরো বলেন, অবাক লাগে আজ আন্তর্জাতিক ভাবে অনেক কথা বলে। আমার প্রশ্ন, যখন মিলিটারি ডিক্টেটররা নির্বাচনকে কলুষিত করেছে তখন কোথায় ছিলো তারা? তখন তো কিছু বলতে শুনিনি এই দেশগুলোকে। ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়াকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পদত্যাগ করতে হয়েছে। নির্বাচনে অবৈধভাবে জেতার জন্য বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে জনগণের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেই সংবিধান স্থগিত করে মার্শাল ল’ জারি করে। তথাকথিত হ্যা-না ভোটের নির্বাচনে না বাক্স খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তারা গণতন্ত্রের নামে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে আওয়ামী লীগ সরকার আইন করে দিয়েছে যার অধীনে এখন দেশে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
তিনি আরো বলেন, মানুষ যখন ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তারা সঠিক জায়গায় ভোট দেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনি। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০ টি সিট পায়। আওয়ামী লীগের ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি বছর বাজেট প্রণয়ন এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের মতো জ্বালাও পোড়াও করে আবার সাধারণ মানুষের রুটি রুজিতে হাত দিয়েছে বিএনপি-জামাত। তারা ২০১৪ সালে নির্বাচনে আসতে চায়নি কারণ তাদের আত্মবিশ্বাস নেই। ২০১৮ তারা এসেও সরে পরে। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার করে। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি ২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে। সাংবাদিকদের ওপর, মহিলা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে বিএনপি-জামাত। তারা মানুষ মেরে সরকার উৎখাত করতে চায়। মানুষ মেরে সরকারে যাওয়া যায় না। তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কখনো আমরা বাধা দেইনি। যখন তারা ভদ্রভাবে কর্মসূচি পালন করছিলো তখন মানুষের কাছে বিএনপি’র গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। কিন্তু যখন তারা অগ্নি সন্ত্রাস, খুন, হামলা শুরু করলো তখন আবার তারা জনবিচ্ছিন্ন, সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিতি পেলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। সেটি নষ্ট করার জন্য রাজনৈতিকভাবে না পেরে এখন অতনৈতিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করে যাচ্ছে। হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আইন হাতে না তুলে নাশকতাকারিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট হবে ৭ জানুয়ারি। তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। গত চারদিনে নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৩৬২টি। সিইসি তফসিল ঘোষণার পরই দলের মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। চারদিন ধরে চলা বিক্রি শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। প্রতিটি ফরম ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রি হওয়ায় মনোনয়নপত্র বিক্রি করে আওয়ামী লীগ মোট ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আয় করেছে।
রাজনীতি/হান্নান






