সাড়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া সেই ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ অক্টোবর ২০২৩, ৯:৩৯ অপরাহ্ণহবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হক কামালের বিরুদ্ধে শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদা চেয়ে চিঠি দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। রোববার থেকে কমিটি বিষয়টিতে তদন্তে নামে।
এর আগে শনিবার বিষয়টি তদন্তে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামছুল হককে। সদস্য রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান ও বিশেষ শাখার পরিদর্শক রফিকুল ইসলামকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন। প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি তদন্ত শেষ করে দ্রুতই প্রতিবেদন দিতে পারব।
সূত্র জানায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হক কামাল শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে অবস্থিত হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জিএম (অ্যাডমিন), স্কয়ার ডেনিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাফরিদ কটন মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে সহযোগিতা চেয়ে পৃথক তিনটি চিঠি লেখেন। ১০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে শারদীয় দুর্গাপূজা ও কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে প্রত্যেকের কাছে সাড়ে তিন লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়। নাস্তা, পানীয় ও ফলমূল সরবরাহ করার বিষয় উল্লেখ করে পূজা ও কমিউনিটি পুলিশিং ডের নামে টাকা চাওয়া হয়। তিনটি চিঠিই একই রকম।
চিঠিতে বলা হয়, ১৪ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, কমিটির অন্যান্য সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। পূজা সংক্রান্ত উক্ত অনুষ্ঠানে আপনার উপস্থিতি একান্ত কাম্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনদের নাস্তা এবং আপ্যায়নের জন্য বর্ণিত মালামাল সরবরাহ করে পুলিশের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করার অনুরোধ করা হলো।
চিঠিতে ওসি কামাল খাবারের ৬টি আইটেমের উল্লেখ করেন। পূজা উদযাপনের নামে কাচ্চি বিরিয়ানি, জিলাপি, মিষ্টি, দই, পানি, বিভিন্ন প্রকার ফলের খরচ বাবদ ১ লাখ টাকা এবং একই চিঠিতে আলাদাভাবে আগামী ২৮ অক্টোবর কমিউনিটি পুলিশিং ডে উদযাপনের জন্য আড়াই লাখ টাকার মালামাল চেয়ে হিসাব দেওয়া হয়।
পুলিশিং ডের কথা উল্লেখ করে প্রত্যেক চিঠিতেই ৫শ লোকের সমাগমের কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনদের আপ্যায়নে নানা ধরনের খাবারের আয়োজন করার কথা বলেন। এ আইটেমে রাখা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি, কেক, মিষ্টি, পানি ও বিভিন্ন প্রকার ফল। কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে ব্যানার, ফেস্টুন, মাইকিং, ফিল্ড ক্যাপও এ চাঁদার মধ্যে ধরা হয়।
সারাদেশসংবাদ/হান্নান






