নিজের টাকায় ব্রিজের এপ্রোচ ও সড়কের খানাখন্দ ঠিক করেন দিনমজুর মনাই মিয়া
সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ)
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ জুন ২০২৩, ৯:৩৬ অপরাহ্ণনিজের টাকা খরচ করে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার অলিগলিতে বিভিন্ন সড়কের খানাখন্দ ঠিক করে চলেছেন মনাই মিয়া নামের এক ব্যক্তি। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ও জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তার এ কাজের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার মাজের গাঁও গ্রামের পছন্দর আলী’র ছেলে মনাই মিয়া(৫৫)।
পেশায় একজন শ্রমিক। তার নিয়মিত কাজ থাকে না। এতে অবসর সময়ে নিজ উদ্যোগে বাড়ির পাশের সড়কের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হওয়া খানাখন্দ ঠিক করেন তিনি। বিশেষ করে রিকশা, ভ্যান, ছোট গাড়ি এবং মানুষের চলাচলে সমস্যা হয় এমন স্থানগুলোতে সাধ্যমতো কাজ করেন মনাই মিয়া। পরিবারও এ কাজে উৎসাহ দিচ্ছে তাকে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের কালিউড়ি ব্রিজে এপ্রোচ পাকা না থাকায় গাড়ি নিয়ে সেতুতে উঠতে ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। এ ভোগান্তি কমিয়ে আনতে মাটি, পাথর আর বালু নিয়ে দূর্ভোগ লাগবে কাজ করছেন তিনি। নিজ হাতেই বালু,পাথর ও মাটি মিশিয়ে ঠিক করেন ব্রিজের কাঁচা এপ্রোচ।
জানা যায়, ২২ কোটি টাকা ব্যায়ে দোয়ারাবাজার -ব্রিটিশ পয়েন্ট হয়ে বালিউড়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজ করা হয়। কিন্তু রাস্তা সংস্কারের ২বছর পার হয়ে গেলে ও এখনো সংস্কার হয়নি উপজেলা সদরের কালিউড়ি ব্রিজের এই এপ্রোচ সড়ক। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন উপজেলার লোকজন।
সেতুটি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন টেবলাই এলাকার বাসিন্দা অটো চালক আকবর আলী বলেন, ‘নিজের পকেটের টাকা খরচ করে এমন কাজ করা লোক আমি আর দেখিনি। সড়কের ছোট ছোট ভাঙ্গা জায়গাগুলো বালু,পাথর ও মাটি দিয়ে ঠিক করেন তিনি।
দোয়ারাবাজার সদর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন, ‘তিনি নিজ উদ্যোগে যে কাজগুলো করেন তা সমাজের জন্য অবশ্যই ভালো কাজ। দেখেছি রাস্তার ছোট ছোট ভাঙা অংশ তিনি ঠিক করছেন।
এবিষয়ে মনাই মিয়া বলেন, ‘ব্রিজের এপ্রোচ পাকা না করায় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। মানুষরা গাড়ি নিয়া উঠতে পারেনা। আমার সামনে কয়েকটি এক্সিডেন্ট হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার সদরের সড়কগুলোতে যেসব খানাখন্দ তৈরি হয়েছে সেগুলোর কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বৃষ্টির সময় জমা পানির ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল বা কোনো গাড়ি গেলে পানি ছিটে এসে পথচারীদের গায়ে পড়ে। আবার অনেক সময় এসব জায়গা দিয়ে রোগী নিয়ে যেতেও সমস্যা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ, প্রতিদিন কাজ পাইনা। তাই বেশি কিছু করতে পারবো না। তবে আমার নিজের একটা স্লোগান আছে— ‘আমাদের দোয়ারাবাজার আমরাই গড়বো, ইচ্ছে করলে সবই পারবো’। এ ইচ্ছাটাকে জাগ্রত করতে আমি একজন শ্রমিক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতাটুকু রাস্তার খানাখন্দ ঠিক করার কাজে লাগিয়েছি। যেদিন কাজ থাকেনা সেদিন কোদাল নিয়ে রাস্তায় চলে আসি।
মানাই মিয়া বলেন, একটি ব্রিজের কাজ শেষ হলেও ব্রিজের এপ্রোচ পাকা করতে দু-তিন বছর লাগে। এ সময়ের মধ্যে টুকটাক কাজগুলো আমার মতো আরও অনেকে শুরু করলে মানুষের ভোগান্তি কম হবে। রাষ্ট্রেরও উপকার হবে।
সিলেটসংবাদ/হান্নান






