শীতের পিঠা বিক্রি করে দৈনিক আয় ২০০০-৪০০০ টাকা
তানভীর আহমদ জাকির,ছাতক থেকে
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ৬:২৩ অপরাহ্ণসুনামগঞ্জের ছাতক শহরের গলিতে, রাস্তার মোড়ে এবং ট্রাফিক পয়েন্টে শীতের পিঠা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছে কয়েকটি পরিবার। কেউ একসঙ্গে চার থেকে ৬টি চুলা বসিয়েও পিঠা বানাচ্ছেন। এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। কোনো কোনো দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েও পিঠা কিনতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাতক শহরের কোর্ট রোড, চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ট্রাফিক পয়েন্ট সহ কয়েকটি জায়গায় ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে পিঠা তৈরি করা হচ্ছে। মাটি দিয়ে চুলা তৈরি করে যে যার সুবিধামতো জায়গায় বসিয়ে পিঠা বানিয়ে বিক্রি করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কমপক্ষে চারটি চুলা থেকে শুরু করে ৬টি চুলা পর্যন্ত একসঙ্গে জ্বালিয়ে পিঠা বানাচ্ছেন তারা।
অনেকে ভ্যানে চুলা বানিয়ে ঘুরে ঘুরেও পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছেন। নানা ধরনের পিঠার পাশাপাশি সবেচেয়ে বেশি দেখা যায় ভাপা পিঠা ও চিতই পিঠা বানাতে ও বিক্রি করতে। নারিকেল, আতব চালের গুঁড়া ও ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড় দিয়ে বানাচ্ছেন ভাপা পিঠা। চালের গুঁড়া দিয়ে চিতই পিঠা বানিয়ে তার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে শুঁটকি, ধনেপাতা, সরিষা, মরিচসহ নানা ধরনের ভর্তা। ছাতক শহরের মানুষের কাছে এই খাবার খুবই জনপ্রিয়। কাজ ও ব্যস্ততার জন্য আগের মতো ঘরে ঘরে পিঠা তৈরি করতে দেখা না গেলেও শীতের সন্ধ্যায় রাস্তার পাশে তৈরি পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে রাত ৮টার দিকে দেখা যায়, অনেকেই রাস্তার পাশে বসেই গরম গরম পিঠা খাচ্ছেন। আবার অনেকেই পিঠা কিনে পরিবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ এই দোকানগুলো বিকেলে বসে। চলে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতের মৌসুমে এক শ্রেণির মানুষ অল্প পুঁজি ও কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় পিঠা বানিয়ে তা বিক্রি করছেন। বিকেল হলেই শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মাটির চুলা জ্বালিয়ে তার ওপর ছোট ছোট মাটি বা লোহার কড়াই বা হাঁড়ি বসিয়ে তাতে বানাচ্ছেন পিঠা। একটু পর পর ঢাকনা তুলে কড়াইয়ের মধ্যে চালের গুঁড়া, পানি ও লবণ দিয়ে গোলানো অংশ দিয়ে বানানো হচ্ছে চিতই পিঠা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হয়ে যায় পিঠা। এই গরম গরম চিতই পিঠা নামিয়ে প্লেটে নানা ধরনের ভর্তা সাজিয়ে ক্রেতাদের দেওয়া হচ্ছে। প্রতি পিস চিতই পিঠা বিক্রি হয় ৫-১০ টাকা করে। আর ভাপা পিঠা বিক্রি হয় ১০-১৫ টাকা করে। এতে একেকজন পিঠাবিক্রেতার দিনে আয় হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। ছাতক শহরের জোসনা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে যে শীত পড়েছে তাতে ঘরে বসে বসে পিঠা খাওয়ার সময়। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় পিঠা বানাতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে স্বামী আর সন্তানদের জন্য রাস্তার পাশ থেকেই চিতই পিঠা কিনে এনেছি। সঙ্গে সরিষা, শুঁটকি ভর্তা দিয়েছে। সবাই অনেক মজা করে খেয়েছে। আমার বিকেলের নাস্তাটাও হয়ে গেল।
শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে পিঠা বিক্রি করেন বাবুল নামে একজন। তাকে সহযোগিতা করেন সহযোগী দু’জন। পাশেই কোর্ট রোড তাদের বাড়ি। নিজেদের সংসারের সব খরচ জোগাড় হয় এই পিঠা বিক্রির টাকায়। বিকেল হলেই কোর্ট রোড এলাকায় ভেনের মধ্যে ছয়টি আলগা মাটির চুলা নিয়েই শুরু করেন পিঠা বানাতে। ভাপা ও চিতই পিঠা বানান। চিতই পিঠার সঙ্গে দেওয়া হয় শুঁটকি, মরিচ, সরিষা ভর্তা। প্রতিদিন তাদের আয় হয় দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা। তবে মাঝে মধ্যে বাজারে লোক সংখ্যার উপস্থিতি কমে গেলে বিক্রি কমে যায় বলে জানিয়েছেন বাবুল। পিঠা বিক্রেতা বাবুল বলেন, শীত এলেই পিঠা বানিয়ে বিক্রি করি। আমি একা সামাল দিতে পারি না। তাই আমাকে আরো দু’জন সহযোগিতা করেন। লাভও হয় মুটামুটি। এই শীতের সময় পিঠা বানিয়ে আয় করে তা দিয়ে সংসার চালাই। পিঠা বিক্রেতা আরো বলেন, গত তিন থেকে চার বছর ধরে শীত এলেই পিঠা বানাই।
পিঠা কিনতে আসা চাকরিজীবী স্বপ্না বলেন, সারাদিন স্কুলে চাকরি করি। বাসায় এসে আর কিছু করতে ইচ্ছে করে না। পরিবারের সদস্যরা পিঠা খেতে চায়। তাই বাজার থেকে খেজুরের গুড় কিনে তা দিয়ে প্রথমে সিরা তৈরি করি। তারপর রাস্তার পাশ থেকে পিঠা কিনে এনে গরম গরম সেই সিরার মধ্যে ভিজিয়ে রাখি। সারারাত ভেজার পর সকালে নরম হয়ে যায় পিঠাগুলো। তখন সবাইকে খেতে দেয়। পরিবারের লোকজন মজাদার পিঠা খেয়ে অনেক খুশি হয়।
সিলেটসংবাদ/হান্নান



