বড়লেখায় মৎস্য খামারি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ মে ২০২০, ৩:৩০ অপরাহ্ণবড়লেখা প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মৎস্য খামার মালিক সমছ উদ্দিন (৩৪) হত্যার ২ দিনের মধ্যে পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকান্ডে জড়িত ৫ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করেছে হত্যায় ব্যবহৃত ৩টি ধারালো দা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করেই ব্যবসায়ী সমছ উদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতার আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রহমানীয়া চা বাগানের বাসিন্দা শচিন নায়েক জগাই (৩৫), মোহাম্মদনগর গ্রামের হাফিজুর রহমান (২৮), হেলাল উদ্দিন হেলাই (৩৫), মোক্তার আলী (৪৫) ও জসিম উদ্দিন (৪২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা সিদ্ধান্ত নেয় সমছ উদ্দিনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার। এরই প্রেক্ষিতে গত বুধবারে তারাবীহর নামাজ শেষে মোক্তার আলীর দোকানের পেছনে বসে হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করা হয়। উক্ত মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করে হেলাল, মোক্তার, জসিম, হাফেজ এবং শচীন। শনিবার জসীমের বাড়িতে ইফতারে সবাই অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে পূর্বের পরিকল্পনাটি ঝালাই করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী শচীনের মাধ্যমে মদ আনানো হয়। প্রথম এক দফা শচীন এবং সমছ ফিশারীর পাশে টিলার উপরে মদ খায়। মদ খেয়ে সমছ বাড়িতে চলে যেতে চাইলে তাকে সবাই মিলে ফিশারীর মাছ চোর ধরে দিবে বলে এবং তাকে বুদ্ধি দেওয়া হয় যে তার মোটর সাইকেলটি সামনে রেখে আসার জন্য যাতে চোররা মনে করে ফিশারীর মালিক সমছ বাড়িতে চলে গেছে। মাছ চোর ধরে দেওয়ার টোপ দেওয়ায় সমছ রাজি হয়ে যায় এবং তার ব্যাবহৃত মোটর সাইকেলটি একটি বাড়িতে রেখে ফিরে আসে। পরবর্তীতে আরেক দফা মদ খাওয়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় মদ খেয়ে বেশামাল সমছ জনৈক রজ্জাক আলীর পরিত্যাক্ত ঘরের চৌকির উপরে শোয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। শনিবার দিবাগত রাত অনুমান ১.৩০ ঘটিকার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হেলাল, জসীম, শচীন এবং হাফিজুরের সহোযোগিতায় মোক্তার ধারালো খাসিয়া দা দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে ঘুমন্ত সমছ উদ্দিনের মৃত্যু নিশ্চিত করে।
উক্ত হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই জন আসামী ঘটনার সাথে তাদের দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। অপর আসামীদেরকে রিমান্ডে আনার জন্য বিজ্ঞ আদালত বরাবর আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ ইয়াসিনুল হক বলেন, নিহত সমছ উদ্দিনের নিখোঁজের পিতার জিডির ২ঘন্টার মধ্যে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার এবং ১৮ ঘন্টার মধ্যে তড়িৎ গতিতে ৫ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে ।
তিনি আরো বলেন ,এস আই এ রকিব মুহাম্মদ, এস আই শরীফ উদ্দিন, এস আই সুব্রত কুমার দাস, এস আই আবু সাঈদ, এস আই রিয়াজ উদ্দিন, এএসআই পিযুষ, এএসআই কামাল, এএসআই তরুনকে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে উক্ত হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন সফল হয়েছে। . . . . . . . . .





