ওসমানী হাসপাতালের ল্যাবে নমুনার স্তূপ
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ মে ২০২০, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণডেস্ক রিপোর্টঃ
সিলেটে বিভাগে প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ভাইরাসটির উপসর্গের রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে কূল পাচ্ছেনা ওসমানী হাসপাতালের করোনা ল্যাব। বাড়ছে উদ্বেগ। কিন্তু ওসমানী হাসপাতালে স্থাপিত একমাত্র ল্যাবে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে না। তবে রোগীদের নমুনার স্তূপ বাড়ছে। বিকল্প হিসাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা। বায়ো সেফটি কেবিন আসলেই চালু করা হবে শা‘বির ল্যাব।
রবিবার পর্যন্ত ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কারোর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ডা: মঈন উদ্দিন করেনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণের পর তার পরিবার সহ ১৬ জন সহ আরো অনেক কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে সবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান।
এদিকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ৩ জনকে দুপুরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তারা ৩ জনই পুরুষ। এ নিয়ে এই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলেন ১০ জন।
জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা। এখানে প্রতিদিন দুটি শিফটে ৯৪টি করে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। তবে এতো সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হয় না প্রতিদিন। প্রথম শিফটে ৯৪ টি নমুনার মধ্যে কিছু ফলাফল পজিটিভ নেগেটিভ কিছুই আসেনা। ফলে এদের দ্বিতীয় শিফটে পরীক্ষা করতে হয়। এর ফলে দ্বিতীয় শিফটেও পুরোপুরি নতুন নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হয় না। তাই করোনা পরীক্ষায় ধীর গতি চলে আসে। স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ওসমানীর ল্যাবে প্রতিদিন ১৮৮টির মতো নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। কিন্তু বার বার পরীক্ষার কারণে সক্ষমতা অনুসারে পরীক্ষা হয় না। প্রতিদিন সিলেটের চারটি জেলা থেকে করোনার সন্দেহে মানুষের নমুনা ওসমানীর ল্যাবে আসে। ল্যাবে এক হাজারেরও বেশি নমুনা জমা পড়ে আছে। তাই কয়েক দিন ধরে ঢাকায় নমুনা পাঠানো হচ্ছে। সেখানেও ভীষণ চাপ। ফলে রিপোর্ট আসতে দেড়ি হচ্ছে।
এদিকে, সিলেটের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় শা‘বির জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের ল্যাবে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। শাবির জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, তাদের ল্যাব ৮০-৯০ ভাগ প্রস্তুত। বায়ো সেফটি কেবিন আসলেই আগামী বৃহস্পতিবার নাগাদ পরীক্ষা শুরু করা যাবে।
এবিষয়ে ডা: আনিসুর রহমান বলেন, চলতি সপ্তাহেই শাবির ল্যাবে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়ে যেতে পারে। এখানে নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই। ওসমানীর ল্যাবে যে আরটিপিসিআর যন্ত্র আছে, শাবিতেও তা আছে।
সিলেটে ব্যতিক্রম: রোগীর সংস্পর্শে আসা অনেকেই করোনা মুক্ত
একজন থেকে আরেকজনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। কিন্তু সিলেটে কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা দিলো ব্যতিক্রম। সিলেটে ডা: মঈন উদ্দিন সহ আরো বেশ কয়েকজন করেনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসাদের নমুনা পরীক্ষা করে তাদের দেহে ভাইরাসটি ধরা পড়েনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডা: মঈন উদ্দিন আক্রান্তের পর তার পরিবার ও আরো অন্যান্য করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা ১৬ ব্যক্তির করোনা পরীক্ষা করা হয়। ওসমানীতে গাইনী বিভাগে এক প্রসূতির করোনা পজিটিভ হলে চিকিৎসকসহ ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে কারোর শরীরেই করোনার উপস্থিতি মেলেনি। এমনকি যে প্রসূতি আক্রান্ত হন সেই নবজাতকের শরীরেও ভাইরাস পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, কেন এরকম ঘটলো তা বলা মুস্কিল। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার বা সংস্পর্শে আসাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয়তো বেশি ছিল।- ইত্তেফাক . . . . . . . . .





