শাবি খুলে দেওয়ার দাবিতে এবার উপাচার্য ভবন ঘেরাও
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ডিসেম্বর ২০১৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণশাবি প্রতিনিধি:
বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবিতে এবার উপাচার্য ভবন ঘেরাও করেছে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর দেড়টায় সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের অবরোধ তুলে নিয়ে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয় তাঁরা।
এসময় উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সারওয়ার তুষার বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া ও শাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন জালিয়াতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের জের ধরে বুধবার সকালে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রথমে অনির্দিষ্ঠকালের বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে সিন্ডেকট বৈঠক শেষে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া মঙ্গলবার রাতেই বুধবার সকাল ৮ টার মধ্যে ছাত্রদের তিনটি হল খালি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার দুপুর থেকে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রতিবাদে ও খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। এক পর্যায়ে পরিবন শ্রমিকরাও বিক্ষোব্দ হয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় পুলিশকে পরিবহন শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে দেখা যায়।
দুপুর দেড়টার দিকে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান অনুসারীদের ধাওয়া করে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অঞ্জন রায়, আবু সাঈদ আখন্দ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম গ্রুপ। এ সময় গুলি ছোঁড়া ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রলীগ। এনিয়ে উত্তেজনার মধ্য মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ে ছাত্র হলগুলোতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এই অভিযানের পর শাবির তিন হল বন্ধ ঘোষণা করে সকাল ৮ টার মধ্যে ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে নিজস্ব ক্ষমতা বলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে উপাচার্য ড. আমিনুল হক ভূইয়া।
উদ্ভূত পরিস্থিতে আহ্বান করা হয় জরুরী সিন্ডিকেট সভা। দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এ সভা শেষে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন জানান, আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা ছাত্রদের ৩টি হল বন্ধ থাকবে। তবে ছাত্রীদের হল খোলা থাকবে বলে জানান তিনি।
ড. কবির জানান, মঙ্গলবারের (২০ ডিসেম্বর) ছাত্রলীগের সংঘাতের ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহির বিন আলমকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
. . . . . . . . .





