গৃহকর্মীকে আটতলা থেকে ফেলে খুন ‘ধর্ষণের পর’
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণনগরীর পূর্ব নাছিরাবাদে খাদিজা বেগম জান্নাত (১৯) নামে এক গৃহকর্মীকে
ধর্ষণের পর আটতলা থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে জবানবন্দি এসেছে। জান্নাতের গৃহকর্তার ছেলে ফাওয়াদ ধর্ষণের পর প্রমাণ না রাখতে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জবানবন্দিতে বলেছেন জান্নাতের সহকর্মী ও একই বাসার গৃহকর্মী লায়লা বেগম।
রোববার (১১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন লায়লা বেগম (২০)। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি দেন।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনার পর বাড়ির গৃহকর্তা পরিবারসহ পালিয়ে গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে পাইনি। তবে জবানবন্দিতে ধর্ষণের পর হত্যার কথা এসেছে। আমরা পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
গৃহকর্তার ছেলে ফাওয়াদ নগরীর ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্র বলে জানান ওসি।
গত শুক্রবার পূর্ব নাছিরাবাদের মসজিদ গলির কেডিএ শায়েলা ভবনের নিচ থেকে জান্নাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জান্নাতের বাবা মুহাম্মদ ছৈয়দ বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভবনের মালিক মাহমুদুল্লাহ ও তার স্ত্রী শায়েলা খাতুন এবং দুই ছেলে ফারাজ ও ফাওয়াদকে আসামি করা হয়।
পুলিশ ওই বাসার আরেক গৃহকর্মী লায়লা বেগমকে রোববার জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে হাজির করে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে লায়লা বেগম জানান, তিনি দুই বছর ধরে মাহমুদুল্লাহর বাসায় কাজ করছেন। দুই মাস আগে জান্নাত ওই বাসায় কাজে যোগ দেয়।
‘গত শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) বিকেলে আমি ড্রইংরুমে কাজ করছিলাম। তখন জান্নাত বের হয়ে বলে শায়েলা আন্টির ছেলে ফাওয়াদ তাকে ধর্ষণ করেছে। তখন রুম থেকে ফাওয়াদ বাহির হয়ে আসলে আমি তাকে বলি আমি আন্টিকে বলে দিব। তখন ফাওয়াদ জান্নাতকে ডেকে বারান্দায় নিয়ে যায় এবং ধাক্কা মেরে ৮ তলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। জান্নাত চিৎকার দিলে ফাওয়াদ দৌড়ে বের হয়ে যায়। ’ জবানবন্দিতে বলেন লায়লা।
জবানবন্দিতে লায়লা আরও জানান, ফাওয়াদ এর আগে লায়লাকেও ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর শায়েলা তাকে রাতে ঘুমানোর সময় দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে বলেছিল।
. . . . . . . . .





