হামলার আগের সমাবেশে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য রাখেন ইউএনও-ওসি
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ নভেম্বর ২০১৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণরোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রেখেছিলেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোয়াজ্জেম হোসেন এবং থানার ওসি আবদুল কাদের। এই সমাবেশের পর ওই এলাকায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, ওই সমাবেশে ইউএনও-ওসির বক্তব্যও উসকানিমূলক ছিলো।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ইউএনও ও ওসির অপসারণের দাবি তোলে। বুধবার ওসি কাদেরকে প্রত্যাহারও করা হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত দেব দীপু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও মোয়াজ্জেমকে প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দিয়েছেন সরকারকে। নইলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে, হামলার ঘটনার তিনদিন পর বুধবার এলাকায় গিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এই ঘটনাকে ‘তেমন কিছু না’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এসব হামলার সাথে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাও জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ছায়েদুল হক।
এক হিন্দু যুবকের ফেইসবুক পাতায় ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেড়শ বাড়ি-ঘর ও ১৫টি মন্দিরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বুধবার দুপুরে নাসিরনগর উপজেলা ডাক বাংলোতে সাংবাদিকের উপর চড়াও হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেন। এই সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকও।
হামলার ব্যাপারী ছায়েদুল হক বুধবার এলাকায় গিলে সাংবাদিকরা ঘটনার সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চান। এসময় মন্ত্রী রেগে গিয়ে বলেন, ‘ঘটনা ঘটার পর স্বাভাবিক কি না। উল্টা কথা কন কেন?’
অপরাধীদের বিচার হবে কি না- মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ’আল্লারে জিগান গা। কী প্রশ্ন! আশ্চর্য প্রশ্ন। বিচার হবে না কেন? দেশে বিচার হচ্ছে না?’
মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনা তো তেমন কিছুই না। আপনারা ঘুরে দেখেন সবকিছু স্বাভাবিক আছে।”
আহলে সুন্নাতের ওই সমাবেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
ছায়েদুল হক বলেন, “তবে আমার দলের যে সব নেতা টাকা পয়সা খায়। এদেরকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। এরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।”
বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সংসদ সংদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। তবে হরিণবেড় গ্রামের একটি মন্দির ও বাড়ি পরিদর্শন করেই ফিরে যান তিনি।
এছাড়া বুধবার বিকালে মোহেন্দ্র চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে নাসিরনগর শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ থেকে ইউএনও মোয়াজ্জেমকে অপসারণের দাবি জানায় কমিউনিস্ট পার্টি।
দুপুর ১২টায় পরিদর্শনে আসে দুই মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল ও খুশি কবির। প্রশাসনের গাফিলতি থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তারা।
সূত্র : বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম
. . . . . . . . .





